সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসন

এন্থ্রপিকের অভিনব উদ্যোগ: জনকল্যাণ ফান্ডে শেয়ারের পাঁচ শতাংশ প্রদান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

এন্থ্রপিকের অভিনব উদ্যোগ: জনকল্যাণ ফান্ডে শেয়ারের পাঁচ শতাংশ প্রদান

জনকল্যাণমূলক নতুন একটি ফান্ডে নিজেদের শেয়ারের পাঁচ শতাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এন্থ্রপিক। ক্লড এআই সহকারীর এই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বাজারে তাদের আর্থিক মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই অনুপাতের পরিমাণও বাড়ানো হবে।

প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বিপদ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে এই ঘোষণা দিল প্রতিষ্ঠানটি। নতুন গঠিত এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে এন্থ্রপিক পাবলিক বেনিফিট ফান্ড।

সানফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, প্রাথমিক এই পাঁচ শতাংশ বরাদ্দের বিষয়টি শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। কোম্পানির বাজারমূল্য প্রতি ৫০ শতাংশ বাড়লে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও দুই শতাংশ শেয়ার এতে যুক্ত করা হবে।

প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তাদের শীর্ষ নির্বাহীদের নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে এন্থ্রপিক তাদের ইক্যুইটির একটি অংশ সরাসরি জনকল্যাণে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুদান দেওয়া এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছাতে এই ফান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে শ্রমবাজারে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, তা মোকাবেলায়ও এই ফান্ড কাজ করবে।

শ্রমবাজারের বিঘ্নতা নিয়ে গবেষণা ও তা মোকাবেলায় ইতিমধ্যে ২০ কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে এন্থ্রপিক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির গতি বিবেচনা করে আরও বড় পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে এবং এই ফান্ড সেই লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি একটি পাবলিক বেনিফিট করপোরেশন হিসেবে নিবন্ধিত। এন্থ্রপিক স্পষ্ট জানিয়েছে যে দেশের ভেতরে বা বাইরে কোথাও লবিং কিংবা রাজনৈতিক অনুদানের কাজে এই ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করা হবে না।

চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআইয়ের সাবেক কর্মীদের দ্বারা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এন্থ্রপিক বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য দুই ট্রলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দায়িত্বশীল উপায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ সমাজের ওপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে চারদিকে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনজির গত মাসের এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত অটোমেশনের কারণে আগামী দশকে প্রায় এক কোটি দশ লাখ মার্কিন কর্মীকে পেশা পরিবর্তন করতে হতে পারে।

banner
Link copied!