জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার পর দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফরাসি সরকার। আগামী শনিবার দেশটিতে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ গত শুক্রবার জানান, এই নিরাপত্তা বহরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও জিম্মি উদ্ধারে ব্যবহৃত বিশেষায়িত এলিট বাহিনীও যুক্ত থাকবে। উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
,প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের নুনেজ বলেন, আমরা কোনো শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মিছিলের কথা বলছি না। আগামী কাল আমরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকতে প্রস্তুত এবং বিন্দুমাত্র বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।
,রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার মাত্র ছয় মাস আগে এমন একটি সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ম্যাক্রোঁ প্রশাসন। গত শনিবারের ব্যাপক দাঙ্গার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর কথা ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে সরকার।
,দাঙ্গাবাজ, লুটপাটকারী ও সহিংসতায় জড়িতদের প্রতি কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন নুনেজ। তিনি জানান, অতিরিক্ত ১০ হাজার পুলিশ ছাড়াও এই অভিযানে জলকামান, সাঁজোয়া যান, অশ্বারোহী পুলিশ, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হবে।
,এদিকে চলতি সপ্তাহের ছুটির দিনটিতে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশেও বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। জনসেবার মান হ্রাস, আবাসন সংকটের চড়া মূল্য, সরকারি খাতের বাজেট কাটছাঁট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার কারণে মহাদেশজুড়ে ক্ষোভের এই ঢেউ তৈরি হয়েছে।
,সংকট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিতে শনিবার ইতালি, অস্ট্রিয়া, স্পেন, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড ও আলবেনিয়ার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতালির মিলান, রোম ও তুরিন, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা এবং স্পেনের মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
,দোকানপাট ও সরকারি ভবন সুরক্ষায় কিছু শহর বিক্ষোভ নিষিদ্ধ বা নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করলেও শনিবার ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস বিক্ষোভের উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
,লিওঁসহ বেশ কিছু বড় শহরের কেন্দ্রস্থল বিক্ষোভকারীদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্যারিসে বাস্টিল চত্বর ও নেশন চত্বরের মধ্যবর্তী পূর্ব দিকের একটি নির্দিষ্ট রুটে সীমিত পরিসরে শ্রমিক ইউনিয়নের মিছিলের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যা নগরকেন্দ্র এড়িয়ে চলবে।
,প্যারিসে প্রধান ছাত্র ইউনিয়ন ইউএনইএফ এবং গিলে জন বা হলুদ ভেস্ট আন্দোলনের সমাবেশ করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর প্রতিবাদে গত মাসের উচ্চ বিদ্যালয়ের বিক্ষোভ থেকে গড়ে ওঠা আন্দোলন যেকোনো মূল্যে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউএনইএফ। এছাড়া ল্যুভ মিউজিয়ামসহ প্যারিসের বেশ কয়েকটি প্রসিদ্ধ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শনিবার বন্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
