বিশ্বের জ্বালানি বাজারে তেলের দাম গত ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার অতিক্রম করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি নতুন কোনো আক্রমণ চালায়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে তেল শোধনাগার, সাবমেরিন কেবল, ডেটাসেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
ইন্টারেক্টিভ ইনভেস্টর ব্রোকারেজের রিচার্ড হান্টার বাজারের এই প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কূটনৈতিক পথ বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলার কথা ভাবছে এমন খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়ার পরই তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। অথচ অনেকেই ভেবেছিলেন সংক্ষিপ্ত এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে, যা এখন অষ্টম মাসে গড়িয়েছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় বাহাত্তর ডলার। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে তা আকাশচুম্বী হয়ে ১২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকে।
গত বুধবার হরমুজ প্রণালীতে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্স। এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অন্যদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত কিছু কূটনৈতিক কর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের পরিবারকে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। কারণ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার জানান, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন নির্বাচনের পর ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বাজারের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, একই সময়ে হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সৌদি আরবের স্থাপনাগুলোতে হামলা এই সপ্তাহে আরও তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টাকারী জাহাজগুলোর জন্য যাত্রা এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সেখানে দফায় দফায় প্রক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে হামলার ঘটনাও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে বলে উল্লেখ করেন এই বিশেষজ্ঞ।
