ইন্দোনেশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সুমায়াতা দ্বীপে কোটি কোটি ডলার মূল্যের অবৈধ মাদকের চালান জব্দ করেছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে চালানো পৃথক কয়েকটি অভিযানে এই মাদক উদ্ধার করা হয়।
মেদান শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ প্রধান সুয়ুদি আরিও সেতো এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। নিরাপত্তা বাহিনী গত মঙ্গলবার সুমায়াতার উপকূলীয় জলসীমায় ১.১ টন কেটামিনবাহী একটি জাহাজ আটক করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত আগস্ট মাস থেকেই এমটি গ্লোবাল ১৬৮ নামের ওই ট্যাংকারটির ওপর নজরদারি শুরু করেছিলেন গোয়েন্দারা। থাইল্যান্ড থেকে রওনা হয়ে আন্দামান সাগর হয়ে সুমায়াতার দিকে আসছিল জাহাজটি।
মঙ্গোলিয়ার পতাকা উড়ানো জাহাজটির মালিক মালয়েশিয়ার জোহর বাহরুভিত্তিক একটি কোম্পানি। মালাক্কা প্রণালীতে মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা জাহাজটি আটকে উত্তর সুমায়াতার বেলাওয়ান বন্দরে নিয়ে আসেন।
পরে যৌথ একটি দল জাহাজটিতে তল্লাশি চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ এই দল ব্যাপক তল্লাশির পর মাদকগুলো জব্দ করতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুয়ুদি আরিও সেতো জানান, এই তল্লাশি অভিযান থেকে যৌথ দল কেটামিন হাইড্রোক্লোরাইড বা এইচসিএল ফরম্যাটে অবৈধ মাদক উদ্ধার করেছে। ৫৮টি বস্তায় মোট ১.১৬ টন ওজনের এই মাদকের চালান পাওয়া যায়।
সামুদ্রিক এই অভিযানে ক্রু সদস্য হিসেবে থাকা আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে সাতজন ইন্দোনেশিয়ার এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা এই কেটামিনের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩.৪৮ ট্রিলিয়ন রুপি বা প্রায় ১৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে গত দুই মাসেরও কম সময়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের কাছ থেকে থাইল্যান্ড থেকে আনা ৬৫টি বস্তাভর্তি ১.৩ টন কেটামিন জব্দ করেছিল কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, গত বুধবার আচেহ প্রদেশের পিদি রিজেন্সিতে পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে একটি গোপন তরল মেথ গবেষণাগারের সন্ধান পেয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই অভিযানে ১.২ টন মেথামফেটামিন জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২.১৬ ট্রিলিয়ন রুপি। আচেহের এই অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে নয়জন ইন্দোনেশীয় এবং দুজন চীনা নাগরিক রয়েছেন।
