দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন দেশটির এক বিশেষ প্রসিকিউটর। গত বৃহস্পতিবার আপিল আদালতের শুনানিতে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির পর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। সেই মামলায় আপিল আদালতের রায়ের আগেই এই দাবি এলো।
সিউল হাই কোর্ট এখনো এই মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করেনি। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধেই তিনি আপিল করেছেন।
নিম্ন আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, পার্লামেন্ট দখল করতে অবৈধভাবে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছিলেন ইউন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদের গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘ সময় একচ্ছত্র শাসন কায়েমের চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
বিশেষ প্রসিকিউটর চো ইউন-সুকের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দলও নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। তাদের যুক্তি, ইউন দেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছিলেন, যার কারণে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য।
তবে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৯৭ সালের পর থেকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি এবং দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর একটি অঘোষিত স্থগিতাদেশ রয়েছে।
হাই কোর্টের শুনানিতে প্রসিকিউটর চোর দল জানায়, কেবল মৃত্যুদণ্ডই ইউনকে সম্পূর্ণভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে। দেশের দীর্ঘদিনের স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও বিদ্রোহের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি বলে দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে ইউনের আইনি দল সাংবাদিকদের জানিয়েছে, প্রসিকিউটররা প্রমাণহীন ও আইনি যুক্তিহীন কথা বারবার বলে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, বিরোধীদলীয় নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট কর্তৃক রাষ্ট্রীয় কাজকর্মে অচলাবস্থা তৈরির চেষ্টার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন।
প্রতিরক্ষা পক্ষ আরও জানিয়েছে, কারও ক্ষতি করা বা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কোনো উদ্দেশ্য ইউনের ছিল না। ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে জারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সে সময় সশস্ত্র সেনা ও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে জাতীয় সংসদে ঢুকে পড়েন আইনপ্রণেতারা। তারা সামরিক আইন বাতিলের পক্ষে ভোট দিলে ইউনের মন্ত্রিপরিষদ তা তুলে নিতে বাধ্য হয়।
উদারপন্থী নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টের অভিশংসনের পর ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইউনকে দায়িত্ব থেকে স্থগিত করা হয়। এরপর সাংবিধানিক আদালত ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে অপসারণ করে এবং ওই বছরের জুলাইয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
বিদ্রোহের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পাশাপাশি আরও একটি সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ইউন। সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা বাড়াতে এবং অভ্যন্তরীণ সামরিক আইনের অজুহাত তৈরি করতে ড্রোন ওড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ইউনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার আবর্জনাবাহী বেলুন ওড়ানোর জবাব হিসেবেই ওই ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।
