শহরাঞ্চলে সকালের নির্মল বাতাসে দৌড়াতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহনের বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। দীর্ঘমেয়াদে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শ মানবদেহের প্রায় প্রতিটি প্রধান অঙ্গের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার নিরানব্বই শতাংশ মানুষই নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছেন। এই ক্ষতিকর বাতাসের কারণে প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় সাতষট্টি লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে থাকে।
তবে বিজ্ঞানীদের মতে অলস বসে থাকার চেয়ে দূষিত পরিবেশে শরীরচর্চাও বেশি উপকারী।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্য গবেষকদের তথ্য বলছে, তীব্র শারীরিক কসরতের সময় দ্রুত ও গভীর শ্বাস নেওয়ার ফলে হাঁটার তুলনায় বেশি দূষিত বাতাস ফুসফুসে প্রবেশ করে। যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত আড়াই মাইক্রোমিটার ব্যাসের সূক্ষ্ম কণা মানুষের চুলের চেয়ে প্রায় ত্রিশ গুণ ক্ষুদ্র। রক্তপ্রবাহে সহজে মিশে যাওয়া এসব উপাদান মস্তিষ্কে পৌঁছে পারকিনসন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইড দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকার তুলনায় দূষিত বাতাসে শরীরচর্চা করলেও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ছাব্বিশ শতাংশ কমে যায়। তবে বাতাস সম্পূর্ণ নির্মল থাকলে এই সুফল বেড়ে দাঁড়ায় একত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত। দিল্লির মতো অস্বাভাবিক মাত্রার চরম দূষিত পরিবেশ ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যায়ামের উপকারিতা দূষণের ক্ষতিকে ছাড়িয়ে যায়। তবে যাদের হাঁপানি বা হৃদযন্ত্রের পুরনো জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দূষিত বাতাসে ব্যায়াম করলে সুফলের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে।
ব্যস্ত শহরে বসবাস করেও কিছু বাস্তবসম্মত কৌশল অবলম্বন করে ক্ষতিকর বাতাসের পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। মূল মহাসড়ক থেকে মাত্র এক বা দুটি ভেতরের সড়কে সরে গিয়ে হাঁটলে দূষণের শিকার হওয়ার মাত্রা কুড়ি থেকে ত্রিশ শতাংশ কমে যায়। আরও ভেতরের নির্জন গলি ব্যবহার করলে ক্ষতিকর ধোঁয়া শরীরে প্রবেশের মাত্রা অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনা যায়। অফিস শুরুর ব্যস্ত সময় এবং অতিরিক্ত কড়া রোদের দুপুরে বাতাসে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ বাড়ে বলে ওই সময়গুলো এড়িয়ে চলা জরুরি।
স্থানীয় বাতাসের মান যাচাই করে দূষণের মাত্রা খুব বেশি থাকলে খোলা মাঠের বদলে চার দেয়ালের ভেতরে বা বড় উদ্যানে শরীরচর্চা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি সরকার ও নীতিনির্ধারকদের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমেই নাগরিক সমাজকে দূষণের স্থায়ী হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
