দুবাই শাসকের ভাতিজার সাবেক স্ত্রী জাইনাব জাভাদলিকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে দুবাই সরকারি কৌঁসুলি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন সন্তানদের জিম্মি করা নিয়ে সাবেক স্বামী শেখ সাইদ বিন মাকতুম বিন রাশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই চলছিল। দুবাই সরকারি কৌঁসুলি বিবিসির কাছে নিশ্চিত করেছেন যে, শিশুদের বাবার দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাইনাব জাভাদলিকে আটক করা হয়েছে।
শেখ সাইদের অভিযোগ, জাইনাব আদালতের অনুমোদিত সাক্ষাতের সময় তাদের তিন সন্তানকে অপহরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের অভিভাবকত্ব এবং তাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিয়ে এই দম্পতির মধ্যে আইনি ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব চলছে। এর আগেও একে অপরের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনেছেন তারা। জাইনাব জাভাদলি পেশাগত জীবনে একজন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্ট হিসেবে আজারবাইজানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
আটক হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই জাইনাব জাভাদলির পরিবারের সদস্যরা তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, কোনো নিরাপত্তা বাহিনী তার সন্তানদের নিয়ে যাবে এবং তাকে গ্রেপ্তার করবে। এ কারণেই তিনি গত কয়েক মাস ধরে ঘরের বাইরে বের হওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। গত বছর একটি অনলাইন লাইভস্ট্রিমের সময় তিনি সাহায্য চেয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী ডেভিড হেগ তার পক্ষে কাজ করছেন।
আইনজীবী ডেভিড হেগ দাবি করেছেন, জাইনাব জাভাদলির অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যেন তাকে অবিলম্বে তার আইনজীবী, কনস্যুলেট এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয় এবং দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাইনাব জাভাদলি গত বছর দুবাইয়ে ই-ক্রাইম বা অনলাইনে অপরাধ সংক্রান্ত মামলাতেও অভিযুক্ত হয়েছিলেন।
দুবাই সরকারি কৌঁসুলি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ বর্তমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং শিশুদের কল্যাণ ও তাদের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার শিশুরা বাবা ও মায়ের কাছে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাইনাব জাভাদলি কতদিন হেফাজতে থাকবেন বা মামলার পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা।
