সুদানের একটি অভ্যন্তরীণ শরণার্থী শিবিরে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত শনিবার ঘটিত এই হামলার হতাহতের সংখ্যা রবিবার নিশ্চিত করেছেন এক আঞ্চলিক সরকারি কর্মকর্তা।
দারফুর আঞ্চলিক সরকারের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী বাবিকেম হামদিন সুদানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সুনা-এর মাধ্যমে এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। পশ্চিম দারফুর রাজ্যের সিবরা এলাকার হাজার সানাকিত অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী এবং শিশু। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স ধারাবাহিকভাবে দারফুর অঞ্চলের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
এর আগের বছর সুদান ও চাদ সীমান্তসংলগ্ন নিজেদের গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর এই শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা। মন্ত্রী জানান, সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে আধাসামরিক বাহিনীর যোদ্ধারা তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয় এবং সমস্ত সম্পত্তি লুটপাট করে।
বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের চলমান নিষ্ক্রিয়তা আরও অপরাধ উৎসাহিত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন হামদিন। বৈশ্বিক সমাজের নীরবতা অপরাধীদের কাজের জবাবদিহিতা এড়াতে সহায়তা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকেই সুদানের সেনাবাহিনী ও এই আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধের ফলে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে এক চরম মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
