ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর চৌদ্দ হাজারের বেশি মানুষ পালিয়ে কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবিক সাহায্য প্রদানকারী সংস্থাগুলো। ওরোমিয়া অঞ্চলের একটি এলাকায় সোমালি আঞ্চলিক রাজ্যের পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার জেরে মূলত ওরোমো ও সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই লড়াই শুরু হয়েছে।
উভয় সম্প্রদায়ই ইথিওপিয়ার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে। স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, দুই পক্ষ থেকেই ভারী গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণ অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য কেনিয়া ছাড়া বেঁচে থাকার অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না।
কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, কেনিয়ার সীমান্তবর্তী শহর মোয়ালেতে ছয়টি অস্থায়ী শিবিরে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও চার হাজার মানুষ ওই এলাকার বিভিন্ন স্বজন ও স্থানীয় পরিবারের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এই পরিসংখ্যান সপ্তাহের শুরুর দিকের তুলনায় অনেক বেশি। মারসাবিট কাউন্টির কমিশনার স্ট্যানলি কামান্দে জানিয়েছেন, গত বুধবার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর দুই হাজারের বেশি ইথিওপীয় নাগরিক সীমান্ত পার হয়েছেন।
শুক্রবার নাগাদ অন্তত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তবে তীব্র লড়াই অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ত্রাণকর্মীরা। কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে সড়কপথে প্রায় ৭৮০ কিলোমিটার উত্তরে এবং ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে মোয়ালে শহরটি অবস্থিত।
এই সংঘাতের কারণে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং আরও মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেনিয়া রেড ক্রস দুর্গতদের মাঝে তাঁবু, কম্বল, মাদুর ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি শিশু ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টি সহায়তা প্রদান করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চাল ও ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ত্রাণকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, যেভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে বর্তমান মজুত দিয়ে তাদের চাহিদা মেটানো কঠিন হতে পারে।
কেনিয়া রেড ক্রসের আপার ইস্টার্ন অঞ্চলের প্রধান মালিক আদন সাংবাদিকদের বলেন, খাদ্য ও পানি দিয়ে আমাদের সহায়তা করার জন্য আমাদের জরুরি ভিত্তিতে আরও হিতৈষী ব্যক্তির প্রয়োজন।
মালিক আদন আরও বলেন, ডায়রিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে স্যানিটারি সামগ্রী এবং পর্যাপ্ত শৌচাগার নির্মাণও অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
