মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের জেরে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপে দেশের বহু নাগরিকের টেবিলে খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত শনিবার এক ভাষণে এই কথা জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামরিক অভিযানের চেয়ে অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানি নেতাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ধরনের চাপ ও হুমকি না থাকলে তবেই কেবল শান্তি আলোচনা সফল হতে পারে, যদিও সংঘাতটি বর্তমানে একটি অচলাবস্থার মধ্যে আটকে রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বক্তৃতায় পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি এবং যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছি, তার কারণে এই সমাজের বহু মানুষের ডিনারে বা খাবারে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে এই যুদ্ধ শুরু হয়। সেই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডাররা নিহত হন।
এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এবং ইসরায়েলে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল সীমিত করে দেয় তেহরান।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বন্দরগুলোতে অবরুদ্ধকরণ আরোপ করে ওয়াশিংটন, যা দেশটির তেল রপ্তানি ও সামগ্রিক বাণিজ্যের পথ সংকুচিত করে দেয়।
চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝিতে মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল লড়াই থামানো এবং বৃহত্তর আলোচনার পথ প্রশস্ত করা। কিন্তু শর্ত লঙ্ঘনের জন্য উভয় পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করায় সেই চুক্তি দ্রুতই ভেস্তে যায়।
চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিক্ষিপ্ত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরান নির্ধারিত নিরাপদ চলাচলের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টাকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ইরান।
যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আবার না শান্তির মতো পরিস্থিতি এমন এক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তেহরানেরও এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি, যদিও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো উপায় জানাননি।
নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই এই মন্তব্য করলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। গত শুক্রবার পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নাওফালের সঙ্গে আলাপকালে তুরস্কের মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক জানান, চলতি সপ্তাহেই ইরানের ওপর মার্কিন হামলা আবার শুরু হতে পারে। অবশ্য বারাক সিরিয়ার জন্য ওয়াশিংটনের দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ইরানের বিষয়ে তাঁর সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
গত শনিবার ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জানান, যেকোনো নতুন হামলার জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। শত্রু সীমিত কোনো পদক্ষেপ নিলেও ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী, যোগ করেন তিনি।
