রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

নাইজেরিয়ায় হামলা

পূর্ব নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা: নিহত অন্তত ১০

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

পূর্ব নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা: নিহত অন্তত ১০

পূর্ব নাইজেরিয়ার একটি গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আফ্রিকার এই জনবহুল দেশটি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দস্যুতার মারাত্মক সংকটের সঙ্গে লড়াই করে আসছে।

নাইজেরিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, তারাবা রাজ্যের বিনারি গ্রামে মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র হামলাকারীর আক্রমণের পর গত শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সময় বন্দুকধারীরা স্থানীয় দোকানগুলো থেকে খাদ্যপণ্যও লুট করে নিয়ে যায়।

তবে বেঁচে যাওয়া মানুষেরা এর চেয়ে অনেক বেশি প্রাণহানির কথা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এই হামলায় অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত শনিবার জানিয়েছে, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪০ জনে পৌঁছেছে। পুলিশ শুরুতে ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও শনিবারের পর আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জুমার নামাজের পরপরই বন্দুকধারীরা নির্বিচারে গুলি চালানো শুরু করে। কমিউনিটি নেতা মালাম আবুবকার সাইফুল্লাহির ভাষ্যমতে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুজন করে মোট প্রায় ৫০টি মোটরসাইকেলে চড়ে হামলাকারীরা এলাকায় প্রবেশ করে।

সাইফুল্লাহি জানান, হামলাকারীরা নগদ টাকা, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া পালিয়ে যাওয়া গ্রামবাসীর ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলোও তারা ছিনতাই করে।

বিনারি গ্রামের বাসিন্দা সাইদু নুহ বলেন, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর তিনি এবং অন্যরা মিলে ২০টির বেশি মরদেহ গুনেছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলেও তিনি জানান।

গ্রামীণ জনপদের মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নাইজেরিয়ান কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ জনপদগুলোকে কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই বন্দুকধারীদের দয়া ও নৃশংসতার মুখে ফেলে রাখা হয়েছে।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য অঞ্চলে দস্যুতা একটি ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। দুর্গম গ্রামাঞ্চলে ক্ষমতাধর অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে ক্লান্ত ও সীমিত শক্তির পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর নিয়মিত সংঘর্ষ ঘটছে।

তারাবা রাজ্যটিও আদর্শহীন এসব দস্যু চক্রের হুমকির মুখে রয়েছে। সরকারি উপস্থিতি কম থাকা এসব এলাকায় এই গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত গ্রামে হানা দেয়, মুক্তিপণের জন্য লোকজনকে অপহরণ করে এবং কৃষক ও খনি শ্রমিকদের ওপর কর ধার্য করে।

অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যে বিমান হামলায় ১৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন বলে গত শনিবার ঘোষণা দিয়েছে নাইজেরিয়ান সামরিক বাহিনী।

banner
Link copied!