রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

গাজা ফ্লোটিলার দুই মানবাধিকার কর্মীকে রিমান্ডে নিল ইসরায়েল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

গাজা ফ্লোটিলার দুই মানবাধিকার কর্মীকে রিমান্ডে নিল ইসরায়েল

ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে অপহৃত গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলার দুই মানবাধিকার কর্মীকে আশকেলনের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে। গত রবিবার আদালত তাদের রিমান্ড আরও দুই দিন বৃদ্ধি করার আদেশ দেয়। স্প্যানিশ নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলিয়ান নাগরিক থিয়াগো আভিলা গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েলি হেফাজতে অনশন ধর্মঘট পালন করছেন। তারা শুধুমাত্র পানি গ্রহণ করে এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গ্রিসের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ১৭৫ জন মানবাধিকার কর্মীকে আটক করেছিল ইসরায়েলি নৌবাহিনী। অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হলেও এই দুজনকে এখনো মুক্তি দেয়নি তেল আবিব।

মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আটককৃত এই দুই কর্মীর ওপর ইসরায়েলি হেফাজতে থাকাকালীন অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সাইফ আবু কেশেককে চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং দীর্ঘক্ষণ অস্বস্তিকর অবস্থানে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। তার মুখ ও হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। অন্যদিকে ব্রাজিলিয়ান অ্যাক্টিভিস্ট থিয়াগো আভিলাকে মেঝের ওপর টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হয়েছে এবং এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তিনি অন্তত দুইবার অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। আশকেলনের শিকমা কারাগারে তাদের রাখা হয়েছে, যে কারাগারটি বন্দীদের ওপর নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত।

সাইফ আবু কেশেক একজন স্প্যানিশ-সুইডিশ নাগরিক, যার পূর্বপুরুষেরা ফিলিস্তিনি। তিনি বার্সেলোনায় বসবাস করেন এবং গত ২০ বছর ধরে ইউরোপজুড়ে ফিলিস্তিনি সংহতি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিন সন্তানের জনক সাইফ ‍‍`গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা‍‍`-র অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। অন্যদিকে ৩৮ বছর বয়সী থিয়াগো আভিলা ব্রাজিলের একজন স্বনামধন্য পরিবেশবাদী এবং ফিলিস্তিন অধিকার আন্দোলনের দীর্ঘদিনের কর্মী। এর আগে ২০২৫ সালেও তাকে একটি ত্রাণ মিশন থেকে অপহরণ করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী এবং নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল। এবারও তার মুখে এবং কাঁধে মারধরের গভীর ক্ষত দেখা গেছে বলে ব্রাজিলীয় দূতাবাস নিশ্চিত করেছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, স্পেন তার নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় আপসহীন। তিনি অবৈধভাবে আটক এই স্প্যানিশ নাগরিককে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের এই অভিযানকে ‍‍`জলদস্যুতা‍‍` হিসেবে অভিহিত করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দুই কর্মীর মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে।

গাজা অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে গত ১২ এপ্রিল ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালি থেকে ৫০টিরও বেশি নৌযান নিয়ে ‍‍`গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা‍‍` যাত্রা শুরু করেছিল। ২০০৫ সাল থেকে গাজা উপত্যকা ইসরায়েলি অবরোধের শিকার এবং গত বছরের অক্টোবর থেকে এই অবরোধ আরও কঠোর করা হয়েছে। ফ্লোটিলার লক্ষ্য ছিল গাজার ২৩ লাখ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দেওয়া। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন যে, সাধারণ নাগরিকদের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই দুই বীর কর্মীর ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে।

banner
Link copied!