বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তাকবিরে তাশরিকের সময় ও নিয়ম: জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২১, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

তাকবিরে তাশরিকের সময় ও নিয়ম: জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালা

জিলহজের বরকতময় দিনগুলো ইবাদত ও ত্যাগের এক অনন্য সুযোগ। এই দিনগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ‍‍`তাকবিরে তাশরিক‍‍`। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ নামাজের পর নির্দিষ্ট এই তাকবির পাঠ করা ওয়াজিব। (হেদায়া: ১/২৭৫)

আইয়ামে তাশরিকের এই ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা মুমিনদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ইসলামি ইতিহাস ও ফুকাহায়ে কেরামের বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.) যখন তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করার প্রস্তুতি নেন, তখন ফেরেশতারা ইবরাহিম (আ.)-এর নিষ্ঠা দেখে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই তাকবিরে তাশরিকের প্রচলন। এর শব্দগুলো হলো: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক সবার ওপরই এই আমলটি পালন করা ওয়াজিব।

জামাতে নামাজ পড়া হোক বা একা, কিংবা শহর-বন্দর বা মুসাফিরের ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। পুরুষরা নামাজ শেষে উচ্চস্বরে এবং নারীরা নিচু স্বরে তাকবির পাঠ করবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তাকবিরটি যেন অন্তত নিজের কানে শোনা যায়। ওয়াজিব আদায়ের জন্য এটি একবার পাঠ করাই যথেষ্ট, তবে তিনবার পাঠ করা নিষিদ্ধ নয়।

যদি কোনো নামাজ শেষে তাকবির পড়তে ভুলে যান, তবে মসজিদে থাকা অবস্থায় বা সালাম ফেরানোর পরপরই মনে পড়লে তা আদায় করে নেওয়া আবশ্যক। কিন্তু মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে বা অজুর পর নামাজের স্থান ত্যাগ করলে এই সুযোগ আর থাকে না। যেহেতু এটি ওয়াজিব আমল, তাই ভুলবশত ছুটে গেলে তওবা ও ইস্তেগফার করা জরুরি।

জিলহজের এই দিনগুলোতে ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম।

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, জিলহজ মাসের এই দিনগুলোর আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল উত্তম নয়। পবিত্র কোরআনেও নির্দিষ্ট এই দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই মুমিনদের উচিত, অবহেলায় যেন এই বরকতময় ওয়াজিব আমলটি ছুটে না যায়, সেদিকে সজাগ থাকা।

banner
Link copied!