কান চলচ্চিত্র উৎসবের পাম ডি`অর পুরস্কারের প্রতিযোগিতায় সাধারণত গভীর, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং রাজনৈতিক ঘরানার চলচ্চিত্রগুলোই বেশি প্রাধান্য পায়। তবে ২০২৬ সালের উৎসবে এই চেনা নিয়মের এক ব্যতিক্রমী চমক দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বুনো ব্লকবাস্টার সিনেমা। `হোপ` নামের এই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীভিত্তিক চলচ্চিত্রটিকে ইতোমধ্যে বছরের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চকর `মনস্টার মুভি` হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
এটি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্রগুলোর একটি।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক ও লেখক না হং-জিন তাঁর ২০১৬ সালের সাড়া জাগানো সিনেমা `দ্য ওয়েলিং`-এর দীর্ঘ এক দশক পর এই নতুন প্রজেক্ট নিয়ে হাজির হলেন। সিনেমাটি আধুনিক ওয়েস্টার্ন ঘরানার গল্প থেকে শুরু করে অ্যাকশন থ্রিলার, হরর এবং মহাকাব্যিক কল্পকাহিনীর এক অনবদ্য সংমিশ্রণ। গল্পের পটভূমি গড়ে উঠেছে `হোপ হারবার` নামের এক জরাজীর্ণ গ্রামীণ শহরকে কেন্দ্র করে, যার পুলিশ প্রধানের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিখ্যাত অভিনেতা হোয়াং জং-মিন। একদল শিকারি বনের মধ্যে গভীর নখের দাগযুক্ত একটি মৃত গরু খুঁজে পাওয়ার পর থেকেই শান্ত শহরটিতে এক দানবীয় তাণ্ডব শুরু হয়।
সিনেমার প্রথম এক ঘণ্টা দর্শকদের এক মুহূর্তও স্ক্রিন থেকে চোখ ফেরাতে দেয় না।
এখানে কোনো দীর্ঘ পারিবারিক আবেগ বা বিজ্ঞানীদের জটিল ব্যাখ্যার পেছনে সময় নষ্ট করা হয়নি, বরং শুরু থেকেই ছিল রুদ্ধশ্বাস গতি। প্রধান চরিত্রে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা দানবের ভয়ে সাধারণ মানুষের মতোই আতঙ্কিত হন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি এর পিছু ছাড়েননি। সিনেমায় দানবটিকে প্রথম ৪০ মিনিটের আগে সরাসরি পর্দায় দেখানো হয়নি, যা দর্শকদের মধ্যে তীব্র রহস্য ও কৌতূহল ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।
তবে সিজিআই বা কম্পিউটার গ্রাফিক্সের কাজ কিছুটা দুর্বল হওয়ায় সিনেমাটিকে অনেক সময় ভিডিও গেমের মতো মনে হতে পারে।
কিন্তু লাইভ-অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর অবিশ্বাস্য নির্মাণশৈলী সেই ঘাটতি পুরোপুরি পুষিয়ে দিয়েছে। মোটরসাইকেল ও ঘোড়া নিয়ে স্টান্ট ডিজাইনের ক্ষেত্রে দুর্দান্ত কাজ করার কারণে এটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। এই সিনেমায় `স্কুইড গেম` খ্যাত অভিনেত্রী জুং হো-ইয়ন এবং অভিনেতা জু ইন-সাং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। হলিউড তারকা মাইকেল ফাসবেন্ডার এবং অ্যালিসিয়া ভিকান্দারের ক্যামিও বা বিশেষ উপস্থিতি সিনেমাটিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করেছে।
হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক জেমস ক্যামেরন ও আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের ক্লাসিক সিনেমা `দ্য টার্মিনেটর` বা `অ্যাভাটার`-এর একটি হালকা প্রভাব এই চলচ্চিত্রে স্পষ্ট। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই দীর্ঘ সিনেমাটি যেখানে শেষ হয়েছে, তাতে মনে হয় গল্পের আরও অনেক কিছু বাকি রয়ে গেছে। তাই দর্শকরা এখন থেকেই এর একটি সিক্যুয়েল বা দ্বিতীয় পর্বের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
