বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

চীনে নতুন জাতিগত ঐক্য আইন নিয়ে উদ্বেগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

চীনে নতুন জাতিগত ঐক্য আইন নিয়ে উদ্বেগ

চীনে একটি নতুন জাতিগত ঐক্য আইন কার্যকর হয়েছে। অধিকার গোষ্ঠী এবং বিদেশি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এই আইনটি দেশটির জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর বলপূর্বক একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল এই দেশে পঁয়তাল্লিশটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা চীনের মোট জনসংখ্যার প্রায় নয় শতাংশ।

বেইজিং জানিয়েছে, বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনটি দেশের সীমানার বাইরেও প্রযোজ্য হতে পারে। এই বিষয়টি বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে চীনের সমালোচক বা প্রবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে চীনা সরকার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, বিদেশি মিডিয়া এই আইনের উদ্দেশ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। বেইজিংয়ের দাবি, তারা কেবল বিদেশে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে চায়।

গত মার্চ মাসে চীনের আইন সভায় এই আইনটি পাস হয়। এর মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চীনের পঁয়তাল্লিশটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং হান সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় তৈরি করা। উইঘুর এবং তিব্বতিরা চীনের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। তিব্বত এবং শিনজিয়াং প্রদেশ মূলত এই জনপদগুলোর কেন্দ্রস্থল। জাতীয় গণকংগ্রেসের প্রতিনিধি লু কিনজিয়ান আইনটি প্রস্তাব করার সময় বলেছিলেন, এটি জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কমিউনিটির ধারণা আরও শক্তিশালী করবে।

আইনটি অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি সংস্থা, ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনকে জাতিগত ঐক্য জোরদার করার দায়িত্ব নিতে হবে। সমালোচকদের মতে, বেইজিং অতীতেও একই ধরনের আইনি কাঠামোর আড়ালে জাতিগত বৈচিত্র্যকে সীমিত করার চেষ্টা করেছে। নতুন আইনের পনেরো নম্বর ধারা অনুযায়ী, কিন্ডারগার্টেনের আগে থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব শিশুদের জন্য মান্দারিন ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আসছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘ জানিয়েছিল যে, চীন প্রায় দশ লক্ষ উইঘুর এবং অন্যান্য তুর্কি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে পুনঃশিক্ষা কেন্দ্রে আটকে রেখেছে। তবে বেইজিং সবসময়ই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, এগুলো মূলত বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে চরমপন্থা দমনে দক্ষতা ও ভাষা শেখানো হয়। নতুন এই আইন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অধিকারের ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

banner
Link copied!