প্রায় দেড়শ কোটি ডলার মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সিরিয়া। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রথম কিস্তির প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে এই তথ্য জানান সিরিয়ার অর্থমন্ত্রী মোহাম্মেদ ইয়াসার বারানিহ। সহকর্মী নূর আমাশাকে সঙ্গে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
সৌদি উন্নয়ন তহবিলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় এমন সব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা আগামী কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থমন্ত্রী বারানিহ জানান, প্রথম প্যাকেজটির আর্থিক মূল্য ৪০ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং এটি দুই দেশের সহযোগিতার প্রাথমিক পর্যায়।
উভয় দেশের কর্মকর্তাদের পর্যালোচনায় রয়েছে আরও একগুচ্ছ প্রকল্প। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মূল খাতগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহজ শর্তে ও উদার ঋণ সহায়তা হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
এই তহবিলের অর্থ মূলত জ্বালানি, স্বাস্থ্য, আবাসন, অবকাঠামো এবং সড়ক খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এছাড়া স্কুল, হাসপাতাল ও মৌলিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আশ্রয়শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত সিরীয়দের নিজ নিজ শহরে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাও এই অর্থের একটি বড় লক্ষ্য।
রিয়াদের সঙ্গে এই অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে কৌশলগত হিসেবে বর্ণনা করেন বারানিহ। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়তা করার জন্য তিনি সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান। যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে দামেস্কের ব্যাপক প্রচেষ্টারই অংশ এই উদ্যোগ।
সৌদি চুক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থ কর্পোরেশন বা আইএফসি সিরিয়ায় ৫টি বা ৬টি প্রকল্প পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের তিনটি উদ্যোগ আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ও অর্থায়নের জন্য প্রায় প্রস্তুত।
প্রকল্পগুলো মূলত জ্বালানি, পরিবহন, লজিস্টিকস, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আইএফসির বিবেচনায় থাকা সিরীয় ও আরব বেসরকারি খাতের প্রকল্পগুলোর মোট মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার।
বিনিয়োগ ঝুঁকি মোকাবিলায় মাল্টিলেটারেল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সির সঙ্গেও প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা সমন্বয় করতে এবং দাতাদের সম্পদ এক জায়গায় আনতে একটি বহুপক্ষীয় ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের কাজ শুরু করেছে সিরিয়া ও তার অংশীদাররা।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ট্রাস্ট ফান্ড গঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বারানিহ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব দেশগুলো এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এতে অংশ নিতে বা সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
