গত শনিবার তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ধ্বংস ও অর্থনীতি পরিচালনার ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন হাজার হাজার তিউনিসিয়ান নাগরিক।
দেশের প্রভাবশালী শ্রমিক ইউনিয়ন ইউজিটিটি এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠনের নেতৃত্বে এই বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বর্তমানে তিউনিসিয়া একটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে জনসেবা ভেঙে পড়েছে, ঘন ঘন পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে এবং ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইদ ২০২১ সালে সংসদ ভেঙে দেন, বহু বিচারককে বরখাস্ত করেন এবং ডিক্রির মাধ্যমে দেশ শাসন শুরু করেন। রাজনৈতিক বিরোধীরা তার এই পদক্ষেপগুলোকে একটি অভ্যুত্থান হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে তিনি নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ও বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন আরও তীব্র করেছেন।
অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কায়েস সাইদ নিজেকে একনায়ক নন বলে দাবি করেছেন। উল্টো তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক অসন্তোষ উসকে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে এবার দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বেকার যুবক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বিরল এক ঐক্যের প্রদর্শন করেছেন। ২০১১ সালে আরব বসন্তের অভ্যুত্থানের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত হাবিব বুর্গিবা অ্যাভিনিউ ধরে তারা একটি বিশাল মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান।
দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভেদের কারণে এর আগে বিরোধীরা বড় ধরনের জনসমাগম ঘটাতে ব্যর্থ হলেও শনিবারের এই বিক্ষোভ প্রেসিডেন্ট সাইদের সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে ছিল কোনো ভয় নেই, ক্ষমতা জনগণের এবং কারাগার ভরে গেছে, মানুষ ক্ষুধার্ত। তারা কারাবন্দী সমালোচকদের মুক্তি দাবি করেন এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকারের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা বেকারত্ব এবং পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। রাজধানী তিউনিস থেকে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত স্ফাক্স শহর থেকে আসা এক বিক্ষোভকারী ইয়াসিন ঘারসেলি বর্তমান জীবনযাত্রার মানের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ইয়াসিন ঘারসেলি বলেন, আর সহ্য করা যায় না, দেশ আজ ধ্বংসের মুখে। আমরা পানি ও বিদ্যুৎহীনতায় ভুগছি এবং একের পর এক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি। নিজের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তিনি স্ফাক্স থেকে ছুটে এসেছেন এবং জানান যে দেশের শেষ কণ্ঠস্বর হলেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
