যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে গ্রহণযোগ্য নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনার পথ খোলা রাখলেও শক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া সংলাপে ফিরবে না। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
বাগদাদে আয়োজিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বাহান্নতম অধিবেশনে এই কথা বলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান জবরদস্তি, হুমকি কিংবা ভীতিপ্রদর্শন মেনে নেবে না এবং চাপের মুখে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বিসর্জন দেবে না। তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তার ভিত্তিতে আলোচনার জন্য দেশটি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
আব্বাস আরাগচি জানান, গত দুই বছর ধরে তেহরান অত্যন্ত সদিচ্ছার সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে গেছে। কিন্তু কূটনৈতিক উদ্যোগের ঠিক পরপরই সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা কোনো ধরনের নিশ্চয়তা ছাড়া নতুন করে আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে গভীর অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
তেহরান যে কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি, সে কথা স্পষ্ট করে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি কাতারের মধ্যস্থতায় পূর্বে পাঠানো সাত দিনের একটি প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব এবং স্বাভাবিক সামুদ্রিক চলাচল ফিরিয়ে আনা যায়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং কাতারের সমর্থনে গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বোঝাপড়া হয়েছিল, তার প্রসঙ্গও টানেন আব্বাস আরাগচি।
তিনি জানান, ওই বোঝাপড়া পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই সামুদ্রিক চলাচল যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির প্রায় ষাট ভাগে গিয়ে পৌঁছেছিল।
ইয়েমেন সংকট প্রসঙ্গে আরাগচি জানান, এই সংঘাতে কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান করা উচিত। পূর্বে সম্মত হওয়া শান্তি রোডম্যাপের ভিত্তিতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপের পথ সুগম করতে ইরান সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ফিলিস্তিন বিষয়ে তেহরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আঞ্চলিক সংকট, ফিলিস্তিন, শান্তি, উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাগদাদে দুই দিনব্যাপী ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই বৈঠক শুরু হয়েছে।
শান্তি ও টেকসই উন্নয়ন প্রচারের জন্য সংলাপ ও সংহতি এই দুটি অপরিহার্য স্তম্ভকে প্রতিপাদ্য করে আয়োজিত এই বৈঠকে তুরস্কের কাছ থেকে সংস্থার ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে ইরাক।
