অ্যান্টার্কটিকার একটি বিশাল হিমবাহ আগের ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে গলে যাচ্ছে। গত শনিবার প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে এটি তার অবদান দ্বিগুণ করতে পারে।
বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহ দ্রুত ভর হারাচ্ছে। উষ্ণ মহাসাগরের পানি এর নিচে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়ছে এবং নিচ থেকে বরফ গলিয়ে দিচ্ছে।
গবেষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতির বাইরে বাড়তি উষ্ণতা বৃদ্ধি না পেলেও এই প্রক্রিয়ার কারণে দুই হাজার একশো সালের মধ্যে থোয়াইটস বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
পূর্ববর্তী প্রথাগত বরফের চাদর সংক্রান্ত মডেলগুলোতে অনুমান করা হয়েছিল যে হিমবাহটি দুই হাজার একশো সাল নাগাদ প্রায় ১৫ মিলিমিটার অবদান রাখবে।
এর সম্ভাব্য পতনের মারাত্মক পরিণতির কারণে প্রায়ই একে ডুমসডে গ্লেসিয়ার বা সর্বনাশা হিমবাহ বলা হয়। পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার প্রায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে থোয়াইটস বিস্তৃত রয়েছে।
এই বিশাল বরফ গঠনটি পাইন আইল্যান্ডের মতো অন্যান্য হিমবাহের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বরফের বিশাল ভাণ্ডারকে আটকে রাখার একটি বাধা হিসেবে কাজ করে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রায় চার শতাংশের জন্য দায়ী থোয়াইটস। দুই হাজার সাল থেকে এটি ১ ট্রিলিয়ন টনের বেশি বরফ হারিয়েছে এবং প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টন বরফ ক্ষয় অব্যাহত রয়েছে।
গবেষকরা তাদের সর্বশেষ গবেষণায় থোয়াইটস হিমবাহের গ্রাউন্ডিং জোনের ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছেন, যেখানে তলদেশের পাথরের ওপর থাকা বরফ সমুদ্রে ভাসতে শুরু করে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রকল্প বিজ্ঞানী এবং গবেষণাটির প্রধান লেখক মাতিয়া পইনেল্লি ব্যাখ্যা করেছেন যে, জোয়ারের একটি পাম্পিং প্রক্রিয়া উষ্ণ পানিকে বরফের গভীরে পৌঁছাতে সক্ষম করে এবং তীব্র গলনের সৃষ্টি করে।
কম্পিউটার সিমুলেশনে দেখা গেছে যে দুই হাজার একশো সালের মধ্যে হিমবাহটি পানির নিচের মুগিনো রিজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। আর এটি দুই হাজার ত্রিশের দশকের শেষভাগের মধ্যেও ঘটে যেতে পারে।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে এই পরিবর্তন হিমবাহের পিছু হটার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এর ফলে বিশ্বের উপকূলীয় জনপদগুলো আগের অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি বন্যার ঝুঁকির মুখে পড়বে।
