জর্ডানের পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, দেশের একটি গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে সাতজন নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হন।
কারাক প্রদেশের হামুদ এলাকার সেন্ট জর্জ গ্রিক অর্থেোডক্স গির্জায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল-মামলাকা টিভি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, একটি গাড়ি থেকে নেমে দুই জন হামলাকারী শোকাহত মানুষের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজন আল ফারায়েজ জানান, হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের পরিচয় কী, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি বলে জানান তিনি।
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই সহিংসতার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সরকার। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং বাহরাইন এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি আরব লিগ ও আরব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদও একই সুরে নিন্দা প্রকাশ করেছে।
আরব লিগের মহাসচিব নাবিল ফাহমি উপাসনালয়ে হামলাকে একটি অগ্রহণযোগ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সব মানদণ্ডে একটি অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জর্ডানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশটির গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।
আরব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ জর্ডানের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন বলেন, এই হামলা উপাসনালয়, মৃত ব্যক্তি এবং শোকাহত মানুষের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম বা মাতৃভূমি নেই।
মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জর্ডানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। আল আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম আহমেদ আল তায়েব এবং মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, নিরপরাধ মানুষ এবং উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা এমন এক অপরাধ যা কোনো অজুহাতে জাস্টিফাই করা যায় না।
ফিলিস্তিনের উপরাষ্ট্রপতি হুসেইন আল শেখ, হামাস এবং ফিলিস্তিনের গির্জা বিষয়ক উচ্চ প্রেসিডেনশিয়াল কমিটিও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
কমিটি ফিলিস্তিনের গির্জাগুলোকে শুক্রবার রাত নয়টায় ঘণ্টি বাজানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বেথলেহেমের ম্যানেজার স্কোয়ারে রবিবার সকাল এগারোটায় মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের একত্রে একটি সংহতি সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
