সুদানের আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফ গত মঙ্গলবার রাজধানী খার্তুমের একটি প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জাতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানির একটি সূত্র সাংবাদিকদের এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, মিলিশিয়ার ড্রোনগুলো আল মারখিয়াত ট্রান্সফরমার স্টেশনে আঘাত হানে। এর ফলে খার্তুম ও আল জাজিরা প্রদেশের বিশাল এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
এর আগে গত সোমবারও একটি সমন্বিত ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। পূর্ব সুদানের চারটি প্রদেশে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটাতে সেবার ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছিল।
সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যকার এই সংঘাত শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। বর্তমানে দেশটির মধ্য, উত্তর ও পূর্বাঞ্চল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সাহায্যকর্মীদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধে দুই লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই সংঘাত বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকটের জন্ম দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলা লাখ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুযোগের জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। গত বছর সেনাবাহিনী খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করার পর থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ এই রাজ্যে ফিরে এসেছেন।
তবে ক্ষতবিক্ষত এই নগরীতে বাসিন্দারা তাদের জীবন পুনর্গঠন করতে গিয়ে নানা সংগ্রাম করছেন। ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ অত্যন্ত অনিশ্চিত।
রাজধানীর বেশিরভাগ অংশ এখনো অবিস্ফোরিত বোমার কারণে নিরাপদ নয়। ধসে পড়া অর্থনীতির মধ্যে অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
সুদানের এই গৃহযুদ্ধ মূলত ড্রোনের মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। সংঘাতের উভয় পক্ষই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উন্নত প্রযুক্তির হামলা চালিয়ে একযোগে বহু সাধারণ নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, কেবল অক্টোবরের প্রথম তিন সপ্তাহে ড্রোন হামলায় তিনশোতের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকশ।
