বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরান সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে চুক্তির চেষ্টা কাতারের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৬:৩০ এএম

ইরান সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে চুক্তির চেষ্টা কাতারের

ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন কোনো সামরিক হামলা ঠেকাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি চুক্তির জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন কাতারের নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা। বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক সাইটগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিচ্ছেন কূটনীতিকরা।

মার্কিন, ইসরায়েলি ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এর বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে নির্দিষ্ট মাত্রায় ছাড় পাবে তেহরান।

এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পেছনে মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের বেশ কয়েকটি দেশের জোরালো সমর্থন রয়েছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি সৌদি আরব, মিসরসহ সৌদি নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক অংশীদাররা এবং তুরস্ক এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যদিও এর শেষ পরিণতি কী হবে তা নিয়ে নিজের অনিশ্চয়তার কথাও প্রকাশ করেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমাদের কাজটি শেষ করতে হবে, তা কোনো চুক্তির মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনো উপায়ে। আর আলোচনা সফল হতে পারে কি না, তা আমরা দেখতে পাবো।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে আসা হুমকির পরই এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলো।

গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স। শান্তি আলোচনা পুনরুজীবিত করার উদ্দেশ্যেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই ওই চিঠি পাঠানো হয়েছিল। আগামী সপ্তাহগুলোতে নতুন করে সামরিক হামলা ঠেকানো সম্ভব কোনো কূটনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে, তা খতিয়ে দেখছে ওয়াশিংটন।

ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য উপরাষ্ট্রপতিকে কোনো নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে।

তিনি দাবি করেন, বিষয়টি আসলে এমন যে তাদের চিকিৎসাসামগ্রী ও নানা বিষয়ে সহায়তা প্রয়োজন।

ট্রাম্প আরও জানান, উপরাষ্ট্রপতি তাকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি ভ্যান্সকে বলেছিলেন, যদি আপনি তা করতে চান, তবে ঠিক আছে। মূলত এটি অসুস্থ মানুষদের সহায়তার জন্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

banner
Link copied!