ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ।
অস্থায়ী রাজধানী এডেনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন দেশটির সামাজিক কল্যাণ ও শ্রমমন্ত্রী মুখতার ওমর সালেহ আল-য়াফিই। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবা এই খবর প্রকাশ করেছে।
গত ১০ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। ওই মন্ত্রী জানান, হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং প্রদেশের বিভিন্ন অংশে আরোপিত অবরোধের কারণেই এই বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে ১৯ হাজার ৬০০ পরিবারের মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৭ জন মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মোট সংখ্যার মধ্যে ৫২ হাজার ৯৭৯ জন শিশু রয়েছে।
পর্যবেক্ষণের এই নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর ৪৯৪টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৭৯ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু এবং ২০৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।
সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা ৫৬টি আবাসিক ভবন, ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আটটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১০টি সড়ক ও সেতুর পাশাপাশি জনসেবা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কথা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহত্তর মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন আল-য়াফিই। তহবিলের সংকট এবং জরুরি সেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন তাইজের গভর্নর নাবিল শামসান। তিনি জানান, চলমান অবরোধের কবলে থাকা ছয়টি জেলায় ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করছেন এবং গোলাবর্ষণের ফলে প্রায় ৬৭৬টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
গভর্নর সতর্ক করে বলেন যে, ১২টি হাসপাতাল ও ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জেলাগুলোতে ১২০টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং বাকি ৬৬টি আংশিকভাবে চালু আছে। এই অচলাবস্থার কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি শিশু এবং প্রায় ২৩ হাজার গর্ভবতী নারীর চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
তাইজ ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ এবং এটি বর্তমানে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে বিভক্ত। প্রাদেশিক রাজধানী তাইজ শহরসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা রাজধানী সানা ও অন্যান্য প্রদেশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন একটি দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা করার জন্য ২০১৫ সালের মার্চে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
