বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সুদান ইথিওপিয়া সম্পর্ক

সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোন হামলার অনুমতি দিচ্ছে ইথিওপিয়া: সুদানের অভিযোগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১১:৩০ এএম

সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোন হামলার অনুমতি দিচ্ছে ইথিওপিয়া: সুদানের অভিযোগ

সুদানের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোন হামলা চালানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য ইথিওপিয়া সরকারকে অভিযুক্ত করেছে খার্তুম।

খার্তুমে সংবাদ সংস্থা সুদান নিউজ এজেন্সির আয়োজিত এক সেমিনারে এই অভিযোগ করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মুয়াবিয়া উসমান খালিদ।

তিনি বলেন, ইথিওপিয়া কোনো বাধা ছাড়াই সুদানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে।

মুয়াবিয়া উসমান খালিদ জানান, নিজেদের রক্ষা করার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার পূর্ণ অধিকার সুদানের রয়েছে।

এই আগ্রাসন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক বিচার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে কথা বলতে গিয়ে ইথিওপিয়ার সরকার এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন এই কর্মকর্তা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইথিওপিয়ার জনগণের সঙ্গে সুদানের সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে, যদিও দেশটির সরকার সুদানি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সুদানের প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি সক্ষম এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় খার্তুম তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

এর আগে খার্তুম, আল-জাজিরা, সেন্নার ও আল-কাদারিফ অঞ্চলের ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে।

ইথিওপিয়ার মাটি থেকে ড্রোন উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া ছাড়াও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে দেশটি সমর্থন জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সুদান।

অবশ্য সুদানের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা জানায় দাবি করে বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে আডিস আবাবা।

উল্লেখ্য, সুদানের সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যকার চলমান এই সংঘাত শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে।

আধাসামরিক বাহিনীটিকে মূল সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের জেরে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটেছিল।

এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত দশ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই লড়াই দেশটির দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকটকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে।

banner
Link copied!