শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে সহিংসতা

পশ্চিম তীরে কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১২:০০ পিএম

পশ্চিম তীরে কর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা

দখলকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম উম্ম আল খায়ের এ সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা তিনজন কর্মীর ওপর হামলা চালিয়েছে। ভুক্তভোগীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। রুশ কর্মী আদেলে শকো অনলাইনে জানান, তিনিসহ মার্কিন সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল এবং ইসরায়েলি-রুশ কর্মী আন্দ্রেই এক্স মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলে হামলার শিকার হন।

শকো জানান, সশস্ত্র হামলাকারীরা তাঁদের মারধর করে, প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ক্যামেরা ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেয়। শকো একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায় অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তি নাথানিয়েল ও আন্দ্রেই এক্সকে মারধর করছেন।

শকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, জ্যাসপার এবং তাঁকেও মারধর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে নাথানিয়েলের মুখে পেপার স্প্রে ছিটানো হয়।

আরেকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, কর্তৃপক্ষ নাথানিয়েলকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি চিৎকার করে বলছেন যে একটু আগে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। শকো জানান, আন্দ্রেই এক্সের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং আটক হওয়ার আগে তিনি একাধিকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

শকো লেখেন, আন্দ্রেইকে চরমভাবে মারধর করা হয় এবং পুলিশের সামনেই তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলেও হাসপাতালে না নিয়ে সরাসরি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁকে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকায় গত ১৬ অক্টোবর ঘটা আরেকটি ঘটনার ধারাবাহিকতায় এ হামলা হলো। ওই দিন জলপাই সংগ্রহের সময় মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি কৃষকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গাছে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে।

ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভাইন সেই হামলার ছবি তোলার সময় আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সংবাদকর্মীর পোশাক পরা লেভাইন জানান, মাটিতে পড়ে থাকার সময় বসতিস্থাপনকারীরা তাঁকে বারবার লাথি মারে এবং তাঁর পাসপোর্ট, ফোন ও ক্যামেরার সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের অযৌক্তিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বেশ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত এবং ওই অঞ্চলে বসতিস্থাপনকারীদের অব্যাহত সহিংসতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

banner
Link copied!