সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান মঙ্গলবার ন্যাটোর প্রধান এবং কানাডা, জার্মানি ও স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপ করেছেন। আলাপে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির পাশাপাশি সৌদির দিকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রিন্স খালিদ জানান যে তিনি ও ন্যাটোপ্রধান মার্ক রুটে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে সমন্বয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও তাদের আলোচনায় স্থান পায়।
কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টির সঙ্গে আলাদা এক ফোনালাপে সৌদি ও কানাডার মধ্যকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন প্রিন্স খালিদ। দুই মন্ত্রীই আঞ্চলিক নানা সংকট নিয়ে কথা বলেন এবং সৌদি আরবের ওপর হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
ফোনালাপে কানাডার সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্যের প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন প্রিন্স খালিদ। কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ওয়েনরাইট ঘাঁটিতে সংঘটিত এক অগ্নিকাণ্ডে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এরপর জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াসের সঙ্গে কথা বলেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। দুই কর্মকর্তা দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় বাড়ানোর উপায় পর্যালোচনা করেন। তারা সৌদিকে লক্ষ্য করে চলমান হুথি হামলারও নিন্দা জানান।
চতুর্থ ফোনালাপে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মার্গারিটা রবলসের সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি মন্ত্রী। তাদের এই আলাপচারিতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং রিয়াদ ও মাদ্রিদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার উপায়গুলো প্রাধান্য পায়।
স্পেনের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় সৌদি আরবের ওপর হুথি হামলার পরের আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়। ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চলমান যৌথ প্রচেষ্টাগুলোও পর্যালোচনা করেন দুই কর্মকর্তা।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সৌদি আরবের যোগাযোগ বেশ বেড়েছে। হুথি হামলা মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে রিয়াদ।
ন্যাটোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে চায় সৌদি আরব। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
