যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের জয়েন্ট স্টাফে কর্মরত উচ্চপদস্থ সেনাকৌশলবিদ লেফট্যানেন্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে গোপন তথ্য প্রকাশ করার অভিযোগ ওঠার পরই এই বরখাস্তের ঘটনা ঘটে।
তথ্য ফাঁসের একটি সম্ভাব্য ঘটনা ফৌজদারি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে পেন্টাগন গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার স্বার্থেই এই জ্যেষ্ঠ জেনারেলকে অপসারণ করা জরুরি ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান।
সিলভিয়া জয়েন্ট স্টাফে কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতি বিষয়ক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বরখাস্তের বিষয়টি স্বীকার করলেও সিলভিয়ার নাম উল্লেখ করেননি।
পার্নেল জানান, এই বিষয়টিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের জন্য বিচার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, গোপন তথ্য ফাঁসের সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত তদন্তগুলো বর্তমানে চলছে।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র আরও জানান, পেন্টাগনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যবহৃত পদবি ব্যবহার করে তারা যুদ্ধ বিভাগসহ সরকারি অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের কাছে তথ্য সরবরাহ করার সন্দেহে থাকা কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার প্রচেষ্টায় হেগসেথের চলমান পদক্ষেপে সিলভিয়াকে অপসারণ একটি বড় পদক্ষেপ।
ইরানের সঙ্গে মার্কিন সংঘাত নবম মাসে পদার্পণ করার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। গত জুলাই মাসে হেগসেথ ঘোষণা করেছিলেন যে, সংবাদমাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশ চিহ্নিত ও বিচার করার জন্য পেন্টাগন এবং বিচার বিভাগ একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
গত বছর হেগসেথ গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণকারী নতুন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন, যা সংবাদ সংস্থাগুলোর মধ্যে আইনি উদ্বেগের জন্ম দেয়। নতুন গণমাধ্যম নীতির সঙ্গে একমত পোষণ না করে বহু সাংবাদিক তাদের প্রেস কার্ড জমা দেন, যার আইনি চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছিল।
রয়টার্সকে পেন্টাগনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গোপন তথ্য প্রকাশ করেছেন কি না, তা জানতে চাওয়ার সময় সিলভিয়া তিনটি আলাদা লাইভ ডিটেক্টর বা পলিগ্রাফ পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। ওই কর্মকর্তা জানান, তথ্য ফাঁসের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে হেগসেথ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে সিলভিয়াকে বরখাস্ত করেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের কাছে সিলভিয়ার এক সহকর্মী জানান, গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন এই জেনারেল। তবে সিলভিয়া অতীতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন বলে ওই সহকর্মী স্বীকার করেন।
গত আগস্ট মাসে মার্কিন সরকার পরিচালিত সংবাদমাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস থেকে পেন্টাগনের বরখাস্ত করা তিন সাংবাদিক ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অবৈধ এবং বাকস্বাধীনতার প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে বলে তারা যুক্তি দেখান।
