শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় বিমান হামলা

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বাড়িঘর ধ্বংস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৯:০০ এএম

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বাড়িঘর ধ্বংস

যুদ্ধবিরতি চুক্তি চলমান থাকার পরও গাজা উপত্যকায় দুটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গত বুধবার ঘটে যাওয়া এসব হামলায় বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গত ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করে আসছে ইসরায়েলি বাহিনী।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজা সিটির উত্তরাঞ্চল এবং উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা লক্ষ্য করে দুটি পৃথক হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি হামলা হয় গাজা সিটির উত্তরে সাাফাতাবি এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাফাতাবি এলাকায় একটি বাড়ি লক্ষ্য করে বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়। ওই হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিভাগ থেকে এক বাসিন্দার মুঠোফোনে ফোন করে ইয়াছিন পানি শোধনাগার স্টেশনের কাছের আবাসিক ব্লকটি দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই সতর্কবার্তার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তাৎক্ষণিক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে অনেকে অন্ধকারেই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

হামলা চালানোর আগে এলাকা ছাড়ার জন্য বাসিন্দাদের মাত্র কয়েক মিনিট সময় দেওয়া হয়। বোমা হামলায় লক্ষ্যবস্তু ভবনটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দ্বিতীয় বিমান হামলাটি চালানো হয় মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরে। সেখানকার ব্লক সেভেন এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

এই হামলার আগেও আশপাশের আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিকট বিস্ফোরণে আশেপাশের ভবন ও ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে এই দুটি হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে হামলায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ, যারা মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। ফিলিস্তিনি তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে উপত্যকার প্রায় নব্বই শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

banner
Link copied!