ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে যে তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এমকিউএম-১৭০ মডেলের বিমানগুলোকে তাদের মিশন সম্পন্ন করা থেকে বিরত রাখতে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানের ফলে এই নির্দিষ্ট মডেলের জব্দ করা ড্রোনের মোট সংখ্যা চারে পৌঁছেছে। তবে এই আটকের বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গত সপ্তাহে ইরানি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এমন দুটি ঘোষণা আসার পর নতুন করে এই ঘটনার কথা সামনে এল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা গত শুক্রবার জানায় যে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের মাধ্যমে কুশম দ্বীপের ওপর একটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল।
এর আগের দিন আইআরজিসি নেভি দাবি করেছিল যে তারা হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চলে একই মডেলের আরেকটি ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে এবং সেটিকে অক্ষত অবস্থায় নামাতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের এই ঘটনা সম্পর্কিত ইরানি দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটন অতীতেও তেহরানের এমন বেশ কয়েকটি অপারেশনাল দাবি অস্বীকার করেছে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ চলাকালীন এই নতুন ড্রোন আটকের ঘোষণা এল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি গত সোমবার জানান যে উভয় দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রেখেছে।
বাঘায়ি নিশ্চিত করেছেন যে কাতারের মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক যোগাযোগ সহজতর করতে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছিল। এরপর এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে তেহরান ইসরায়েল এবং অঞ্চলে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায়।
যুদ্ধবিরতির পর গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। তবে জলপথটির ভেতরের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চলমান মতপার্থক্যের কারণে ওই চুক্তির বাস্তবায়ন থমকে আছে।
