ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে বুধবার রাতে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
প্রণালীর দক্ষিণাংশে একটি অননুমোদিত রুট দিয়ে যাওয়ার সময় বড় একটি তেলবাহী ট্যাংকার মাইনের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায় এবং এটি থামতে বাধ্য হয়।
আরেকটি পৃথক ঘটনায় প্রণালীর পূর্বাঞ্চলে রুট ছেড়ে যাওয়ার সময় আরও একটি সুপারট্যাংকার অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে। এমনকি আগুন নেভাতে এগিয়ে যাওয়া একটি টাগবোটও পরবর্তীতে আগুনে পুড়ে যায়।
বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে যে তাদের নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত দুটি লুকাস গোত্রের বিমান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। গার্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলা হয়েছে যে তারা জাহাজগুলোকে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে মাইনে ভরা রুট দিয়ে চলাচলে উৎসাহিত করছে। তাদের মতে এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন করদাতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের চড়া বীমা খরচ গুনতে হবে।
গার্ড আরও সতর্ক করে জানিয়েছে যে প্রণালী অতিক্রমের নিয়ম লঙ্ঘনের এসব প্রচেষ্টা ওয়াশিংটনের জন্য আর্থিক ক্ষতি এবং রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হিসেবে পরিচিত। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, যা এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থেমেছিল।
যুদ্ধ সমাপ্তির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর গত জুলাই মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় লড়াই শুরু হয়।
