গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফোনালাপে অংশ নেন মিশর ও ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা।
গত মঙ্গলবারের পর দুই কর্মকর্তার মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় ফোনালাপ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ঝুলে যাওয়া আলোচনা পুনরায় শুরু করার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিচ্ছে দেশ দুটি।
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের মন্ত্রীরা আঞ্চলিক পরিস্থিতির সর্বশেষ অগ্রগতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। চলমান সংঘাত বন্ধে তারা পারস্পরিক আলোচনার ওপর জোর দেন।
নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নিয়েও এই ফোনালাপে আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের সংঘাত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা মূল্যায়ন করেন দুই কর্মকর্তা।
কথোপকথনের সময় কূটনৈতিক সমাধানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি। তিনি জানান, চলমান সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি।
সংকট এড়াতে সব পক্ষকে প্রয়োজনীয় নমনীয়তা ও ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানান বদর আবদেলআত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং পুরো অঞ্চলকে নতুন কোনো সংঘাতের দিকে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।
নতুন করে সামরিক সংঘর্ষ এড়াতে চলমান ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ এই ফোনালাপ। কূটনৈতিক মাধ্যমগুলো অচল হয়ে থাকায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ব্যবধান দূর করার চেষ্টা চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো।
আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরুর কঠোর শর্ত হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর ছাড় চাচ্ছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, জব্দকৃত ইরানি তহবিল অবমুক্ত করা এবং পুনরায় তেল রপ্তানির অনুমতি চাইছে তেহরান।
একটি বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর গত জুলাই মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত নতুন মোড় নেয়। এর আগে গত ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে গড়ায়।
