রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

আঞ্চলিক শান্তি

কারাবাখে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আজারবাই্জানকে সমর্থন এরদোয়ানের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

কারাবাখে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আজারবাই্জানকে সমর্থন এরদোয়ানের

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাকুর প্রচেষ্টায় আঙ্কারা সবসময় পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আজারবাইজানের শুশা শহরে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

কারাবাখ উদ্ধারের ষষ্ঠ বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে দুই নেতা এই বৈঠকে মিলিত হন। এরদোয়ান বলেন, আজারবাইজানের ন্যায়সংগত সংগ্রামে আঙ্কারা যেমন অতীতে পাশে ছিল, তেমনি এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টাকেও এখন জোরালো সমর্থন দিচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে ৪৪ দিনব্যাপী দ্বিতীয় কারাবাখ যুদ্ধের মাধ্যমে আজারবাইজানি ভূখণ্ড মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ ককেশাসে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পুনরুদ্ধার করা অঞ্চলগুলোতে চলমান পুনর্গঠন কাজেরও প্রশংসা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, কারাবাখ পুনর্গঠন এবং এই অঞ্চলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আজারবাইজানের নেওয়া উদ্যোগগুলোকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করি।

দুই দেশের মধ্যকার গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তুর্কি নেতা জানান, নানা ঐতিহাসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়েই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমান এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এরদোয়ান আরও জোর দিয়ে বলেন, অভিন্ন ইতিহাসের শেকড় থেকে গড়ে ওঠা এক জাতি, দুই রাষ্ট্র নীতিই তাদের ভবিষ্যৎ পথচলাকে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাবে। এ সময় তিনি ২০২১ সালের ১৫ জুন স্বাক্ষরিত শুশা ঘোষণার গুরুত্বের কথাও স্মরণ করেন, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মৈত্রীতে রূপ দিয়েছিল।

এরদোয়ান বলেন, ২০২১ সালের ১৫ জুন শুশায় স্বাক্ষরিত ঘোষণার মাধ্যমে আমাদের যে মৈত্রী গড়ে উঠেছে, তাকে যারা দুর্বল করতে চায়, অতীতে যেমন তারা ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি বর্তমান বা ভবিষ্যতেও তাদের কোনো উদ্দেশ্য সফল হবে না।

২০২০ সালের সংঘাতে আঙ্কারার পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আজারবাই্জানের প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ। তিনি বলেন, এরদোয়ান ও তুর্কি জনগণের এই সংহতি বাকুর মানুষ চিরদিন মনে রাখবে।

আলিয়েভ বলেন, দ্বিতীয় কারাবাখ যুদ্ধের ৪৪ দিনজুড়ে আপনি এবং ভ্রাতৃপ্রতিম তুর্কি জনগণ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অবদান কভু ভোলার নয়।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে চিরন্তন ও অবিচল হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেন যে, তাদের এই ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

আলিয়েভ তার বক্তব্যে বলেন, তুরস্কের সঙ্গে আমাদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পূর্ণ অবিচল। আমাদের মাঝে যারা দূরত্ব তৈরি করতে চায়, তারা কখনোই সফলকাম হবে না।

banner
Link copied!