রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় শীতকালীন দুর্যোগ

গাজায় ভয়াবহ শীতের ঝড়ে প্লাবিত হাজার হাজার তাঁবু: চরম দুর্ভোগে বাস্তুচ্যুত মানুষ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

গাজায় ভয়াবহ শীতের ঝড়ে প্লাবিত হাজার হাজার তাঁবু: চরম দুর্ভোগে বাস্তুচ্যুত মানুষ

রবিবার গাজা উপত্যকায় আঘাত হানে এক তীব্র শীতকালীন ঝড়। এর প্রভাবে সত্তর হাজার তাঁবু পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি।

গত শুক্রবার রাত থেকেই এই অঞ্চলে শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাস। পরিবারগুলো এতদিন ধরে তাদের makeshift বা অস্থায়ী আশ্রয়স্থলগুলো টিকিয়ে রাখার যে চেষ্টা চালিয়েছিল, এই ঝড় তা তছনছ করে দেয়। গাজা সিটি থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে ইব্রাহিম আল-খলিলি জানান যে সাম্প্রতিক এই ঝড়টি উপলব্ধ সুরক্ষার চরম ভঙ্গুরতা উন্মোচন করেছে।

ইব্রাহিম আল-খলিলি বলেন, সাম্প্রতিক এই ঝড়টি দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। তিনি জানান, প্রায় চার লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই এলাকাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখানে তিনি ভেজা তোশক, বালিশ ও কাপড় দেখতে পেয়েছেন।

সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, এই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পুরো উপত্যকা জুড়ে ধসে পড়েছে কয়েক ডজন দেয়াল। ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে আশরাফ আবু আমরা জানান, যেসব বাস্তুচ্যুত পরিবারের তাঁবু প্লাবিত হয়েছে, তারা গত শনিবার সকাল থেকে কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই উপত্যকায় ইসরায়েলের কঠোর মানবিক সহায়তা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির ফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের বিশেষ প্রতিনিধি জোনাথন ভেইচ জানান, এখানকার অধিকাংশ মানুষ অত্যন্ত শোচনীয় পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছেন। তিনি সাধারণ মানুষের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে আরও তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন।

গাজা সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় তারা অন্তত ১,৫০০টি জরুরি কল পেয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে দুই হাজারের বেশি ভবন এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার এই চরম পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অন্তত ৩ লক্ষ তাঁবু অবিলম্বে প্রয়োজন। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে ত্রাণ ও সহায়তা সামগ্রী প্রবেশ করাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ত্রাণ সংস্থাগুলো।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকেই গাজার বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমান এই সংকট মূলত সেই ধ্বংসযজ্ঞেরই ধারাবাহিকতা। ত্রাণ সরবরাহ, আশ্রয় সামগ্রী এবং পুনর্গঠনের উপকরণের ওপর অব্যাহত নিষেধাজ্ঞার কারণে ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি হামলার জেরে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৭৪,৬৪০ জনেরও বেশি মানুষ। এছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১,৬১০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।

banner
Link copied!