অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের চারশ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। গত শুক্রবার হেবরনের কাছে একটি চেকপোস্টে বন্দুক হামলার ঘটনার পর এই অভিযান শুরু হয় এবং এতে বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, দক্ষিণ হেবরনের খালাত মান্না ও দাইয়াত আল জায়তুন এলাকায় সেনারা বেশ কিছু বাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক ব্যারাকে রূপান্তর করে। এছাড়া অন্য কিছু এলাকার বাসিন্দাদেরও ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ভবনগুলোকে পর্যবেক্ষণ চৌকি বানিয়েছে তারা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ অভিযানটি আগামী কয়েক দিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে। তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে বাড়িঘরে হানা দেওয়া হচ্ছে, লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অস্ত্র ও অবকাঠামো খোঁজা হচ্ছে।
হেবরন ও হালহুল শহরের মধ্যবর্তী একটি চেকপোস্টে দুই ফিলিস্তিনি হামলা চালানোর পরপরই এই ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়। ওই হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও অপর তিনজন আহত হন।
ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী ঘটনাস্থলেই দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর হেবরন ও পার্শ্ববর্তী হালহুল শহর সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখে সেনা সদস্যরা।
বেথলেহেমের কাছে তুঘু শহরের দিকে যাওয়া কাঁচা রাস্তাগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে সামরিক বাহিনী। ওয়াফার ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বিকল্প ও এবড়োথেবড়ো রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে সেনারা।
বেথলেহেম এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা এখন এসব কাঁচা রাস্তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে সামরিক হামলা ও সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে।
এই সহিংসতার মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও কারাবন্দী করা, ঘরবাড়ি ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং মসজিদ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা।
এছাড়াও কৃষিজমি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা, কৃষকদের জমিতে যেতে বাধা দেওয়া, লোকজনকে বাস্তুচ্যুত করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
