সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় চলছে ইসরায়েলি গণহত্যা: জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের দাবি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় চলছে ইসরায়েলি গণহত্যা: জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের দাবি

গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পরিচালিত গণহত্যা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘের নিয়োগ করা একদল স্বাধীন বিশেষজ্ঞ গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তদন্তকারী দলটি পশ্চিম তীরে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও তুলেছে। তবে ইসরায়েল গণহত্যা ও যৌন নিপীড়নের এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।

অকুপাইড প্যালেস্টাইন টেরিটরি বিষয়ক তদন্ত কমিশন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অপরাধের অভিযোগ ও প্রামাণিক দলিল নথিভুক্ত করার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা অন্যান্য বিচারব্যবস্থার আইনজীবীরা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই তথ্যগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। চলমান এই ক্ষয়ক্ষতির একটি বড় অংশ ঘটছে যুদ্ধবিরতির সময়কালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আরও গভীরে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসী প্রসারণের কারণে।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে অন্তত ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে অগ্রবর্তী সীমান্তজুড়ে ইসরায়েলি গুলিবর্ষণে ১৮ জন নারী, ৩২ জন বালক ও ১১ জন বালিকা সহ অন্তত ১৯৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

তদন্তকারীরা পশ্চিম তীরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাও নথিবদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনা ও কারারক্ষীদের হাতে সাধারণ মানুষের ওপর নির্মূল অভিযান, নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা এবং নিপীড়ন।

এসদেতেইমান সামরিক কারাগারে গাজার বন্দী ফিলিস্তিনি পুরুষদের ওপর কারারক্ষীদের যৌন সহিংসতার ছয়টি সাম্প্রতিক ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে কমিশন। একটি ঘটনায় কারারক্ষীরা এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে লাঠি দিয়ে ধর্ষণ করে এবং সেই লাঠি তার মুখে ঢুকিয়ে বমি করতে বাধ্য করে। আরেকটি ঘটনায় রক্ষীরা এক ফিলিস্তিনি পুরুষের জননাঙ্গে প্লাস্টিকের সুতা বেঁধে তাকে প্রস্রাব করতে নির্দেশ দেয়।

প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর কারারক্ষী ও সেনাসদস্যদের চালানো যৌন নিপীড়নের ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গর্ভকালীন এক ফিলিস্তিনি নারীকে নারী প্রহরীদের নগ্ন করে তল্লাশি এবং তার মলদ্বারে ও যোনিতে স্পর্শ করার ঘটনা। আরেকটি বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বন্দীকে মারধর করার পাশাপাশি রক্ষীরা আপত্তিকর গালিগালাজ করে এবং শৌচাগার ও স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে না দেওয়ায় তার রক্তে পোশাক ও জিজ্ঞাসাবাদের চেয়ার ভিজে যায়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ এই চুক্তির মাধ্যমে কিছুটা সীমিত হয়েছিল। সেদিনের প্রাথমিক হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে পণবন্দী করা হয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর জবাবে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

banner
Link copied!