বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ইইউ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা

ইসরায়েলি অবৈধ বসতির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের দাবি ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৭:০০ পিএম

ইসরায়েলি অবৈধ বসতির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের দাবি ইউরোপীয় আইনপ্রণেতাদের

ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের বাণিজ্য বন্ধে একটি আইনি প্রস্তাব উপস্থাপনের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। গত মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির এক বৈঠকে অংশ নিয়ে আইনপ্রণেতারা এই দাবি জানান। তারা যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বসতি স্থাপন কার্যক্রমে সহায়তা বন্ধ করার একটি আইনি বাধ্যবাধকতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রয়েছে।

আইএনটিএ চেয়ার বার্নড ল্যাঙ্গে কমিশনকে সমালোচনা করে বলেন যে, কাউন্সিলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবের অজুহাত দেখিয়ে তারা আইন প্রণয়ন শুরু করছে না। রুশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বন্ধের আইনি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত সমর্থন আছে কি না তা আগে নিশ্চিত না করেই কমিশন সেই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল।

ল্যাঙ্গে কমিটিতে বলেন, এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য যে এই ক্ষেত্রে কমিশন কাউন্সিলের সঙ্গে গোপনে আলোচনা করে বিষয়টি আটকে রাখছে এবং আড়াল খোঁজার চেষ্টা করছে।

স্প্যানিশ আইনপ্রণেতা হানা জালৌল মুরো জানান যে, কেবল ঘোষণাপত্র, লেবেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বা আংশিক পদক্ষেপে কোনো কাজ হবে না। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে একটি বাধ্যতামূলক ইউরোপীয় ইউনিয়নব্যাপী পদক্ষেপের দাবি জানান।

মুরো বলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং অন্তহীন পদ্ধতিগত আলোচনার অজুহাত দেখানো বন্ধ করুন। আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও বিশ্বস্ততার সংকটের মুখে এমন যুক্তি মেনে নেওয়া যায় না। ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থেকেও যদি পদক্ষেপ না নেয়, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, কমিশন ও কাউন্সিল তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আইনপ্রণেতারা তাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আদালতে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন।

ডাচ আইনপ্রণেতা ক্যাটারিনা ভিয়েইরা একইভাবে কমিশনের সমালোচনা করে জানান যে, গত পাঁচ মাসে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির পণ্যগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্য পদক্ষেপে কোনো অর্থবহ অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। তিনি যুক্তি দেন যে, এই পণ্যগুলোর ট্র্যাকিং ও লেবেলিং উন্নত করলেই মূল সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি কেবল নজরদারি না বাড়িয়ে এই ধরনের বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করার ওপর জোর দেন।

ভিয়েইরা জোরালোভাবে বলেন যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের যোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ছাড়াই কমিশন সাধারণ বাণিজ্যিক নীতির আওতায় একটি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব করতে পারে।

আইরিশ আইনপ্রণেতা ব্যারি অ্যান্ড্রুজ প্রশ্ন তোলেন যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাব রয়েছে এমন অজুহাত দেখিয়ে কমিশন কেন আইনগত প্রস্তাব উপস্থাপন থেকে বিরত থাকছে। অ্যান্ড্রুজ জানতে চান কেন কোনো প্রস্তাব আনা হচ্ছে না এবং তিনি কমিশনকে আইন প্রণয়ন করার ও পার্লামেন্টকে তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের কর্মকর্তা ভ্লাদিমির জানেচেক জানান যে, গাজার পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। তিনি অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এবং উগ্র দখলদারদের ক্রমবর্ধমান সংঘবদ্ধ সহিংসতার কথাও উল্লেখ করেন।

জানেচেক যোগ করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তির কিছু বাণিজ্য সংক্রান্ত বিধান স্থগিত করা, উগ্র ইসরায়েলি মন্ত্রী ও দখলদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইসরায়েলকে দ্বিপক্ষীয় আর্থিক সহায়তা স্থগিত করার প্রস্তাবগুলো এখনও বিবেচনায় রয়েছে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে কেবল উগ্র দখলদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটিই কেবল গৃহীত হয়েছে।

banner
Link copied!