গাজায় আসন্ন ভারী বৃষ্টি ও জোরালো বাতাস নিয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপত্যকার প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এসব মানুষ বর্তমানে এমন সব এলাকায় বসবাস করছেন, যা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার প্লাবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈরী আবহাওয়া খুব দ্রুত পুরো ছিটমহলটিকে প্রভাবিত করবে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অধিদপ্তর সেখানকার বাসিন্দাদের দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটানো বাস্তুচ্যুত মানুষদের প্রতি এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলোও এখন চরম বিপদের মুখে রয়েছে। ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল বাতাসের কারণে এসব ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের আংশিক ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যেন তাঁবুর প্লাস্টিক ও পেরেকগুলো শক্ত করে আটকে নেন। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য তাঁবুর চারপাশে মাটির বাঁধ তৈরি এবং ছোট নালা কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের সময় জিনিসপত্র মাটি থেকে উঁচুতে রাখার কথাও বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস না করতে এবং সেগুলোর কাছাকাছি তাঁবু না টানার অনুরোধ জানিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কঠিন আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা বাড়াতে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স।
বর্তমানে গাজায় আশ্রয়ের মারাত্মক সংকট চলছে। ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় আবাসিক এলাকাগুলো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ফিলিস্তিনিরা বাধ্য হয়ে তাঁবু, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছেন।
২০২৬ সালের আগস্ট মাসে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, পুরো উপত্যকাজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ অত্যন্ত করুণ দশার তাঁবুতে এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর গত ১৫ অক্টোবর জানিয়েছে, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ মাঝারি থেকে উচ্চ প্লাবন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছেন। এর মধ্যে চার লাখেরও বেশি মানুষ উচ্চ বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ বসবাস করছেন ঝুঁকিপূর্ণ ২ হাজার ৩০০টির বেশি ভবনে।
বৃষ্টির মৌসুম শুরুর আগে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৫০টি পরিবারের জন্য আশ্রয় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ওই দপ্তর। তাঁবুতে পানি ঢুকে পড়া কিংবা ঝড়ে তা উড়ে যাওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জরুরি সরঞ্জামের সংকটের কারণে নিচু এলাকাগুলো আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও আশ্রয়সামগ্রী ও অবকাঠামো মেরামতের সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে বাধা দিয়ে আসছে ইসরায়েল।
