আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ইস্তাম্বুল কংগ্রেস সেন্টারে টিআরটি ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি বিশ্ব সংস্থার তীব্র সমালোচনা করেন।
তুর্কি এই নেতার মতে, দখলদারদের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের তাদের পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা। আধুনিক বিশ্বের রহস্যজনক নীরবতা ও উদাসীনতার সুযোগে এই আগ্রাসন এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। গাজায় চলমান নৃশংসতার সঙ্গে রুয়ান্ডা এবং স্রেব্রেনিকার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির তুলনা করে তিনি বলেন, মানবীয় বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের আর কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।
অধিকৃত অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, কেবল গত অক্টোবর মাসেই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর তিন হাজারের বেশি হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
তুরস্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের গাজা শান্তি চুক্তি বর্তমানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। এরদোয়ানের অভিযোগ, এ বিষয়ে সমালোচকরা চরম দ্বিচারিতার আশ্রয় নিচ্ছে।
তুরস্কের ক্ষেত্রে যারা অন্ধের মতো কঠোর অবস্থান নেয়, এই গণহত্যার নেটওয়ার্কের বেলায় তারাই কাগজের বাঘে পরিণত হয়। চুক্তি রক্ষার আন্তর্জাতিক মৌলিক নীতিগুলোকেও আজকাল সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরদোয়ান সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছে যে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেছে। বিশ্ব এখন তীব্র ক্ষমতা লড়াই এবং নিয়মনীতির চরম অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।
বড় বড় সংকট নিরসনে বিশ্ব শাসনের ব্যবস্থাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার সমস্ত নীতি ও আদর্শ আজ পদদলিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে ইয়েমেন, সুদান ও ইউক্রেন পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানে আংকারা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তুলতে তুরস্ক তার হৃদয় ও আত্মা উজাড় করে দিয়েছে বলে জানান এরদোয়ান।
দেশটিকে নানা নোংরা প্রচারণার মাধ্যমে লক্ষ্যচ্যুত করার অপচেষ্টা চললেও আংকারা নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে দাঁড়াবে না। নিজের বিশ্বাস ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রক্ষায় তুরস্ক সর্বদা সাহসকতার সঙ্গে কথা বলবে বলেও জানান তিনি।
বিবেকবান ও যুক্তিবাদী মানুষদের সম্মিলিত দায়িত্ব হলো ন্যায়সঙ্গত উপায়ে এই ভয়াবহ সংকটের দ্রুত অবসান ঘটানো।
