দক্ষিণ লেবাননে জলপাই সংগ্রহকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছাকাছি গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই সঙ্গে এক লেবাননি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মারজাইউন, নাবাতিয়ে, বিন্ত জবেইলে এবং টায়ার জেলাজুড়ে এসব সামরিক পদক্ষেপ চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তি সত্ত্বেও এসব ঘটনা ঘটছে। ২০২৬ সালের ২৬ জুন স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের ক্রমান্বয়ে সেনা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের জন্য লেবানীয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
মারজাইউন জেলায় কাফার কিলা থেকে দেইর মিমাসের বহির্ভাগের দিকে অগ্রসর হয় একটি ইসরায়েলি টহল দল। সেখানে জলপাই কুড়ানোর কাজে ব্যস্ত লোকজনের কাছেই গুলি চালায় সেনারা। এতে তারা ফসল ফেলে জীবন বাঁচাতে বাধ্য হন।
পরে ওই টহল দলটি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান নেয় এবং সব প্রবেশ ও বহির্গমন পথ বন্ধ করে দেয়। এ সময় এক বাসিন্দাকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সেনারা।
ভারী মেশিনগানের গুলিবর্ষণের ছত্রছয়ায় ইসরায়েলি সামরিক যানগুলো খিয়ামের নিকটবর্তী নাবা ইবল আল-সাকি এলাকার দিকে এগিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে দিনে সেখান থেকে পিছু হটে।
কুন্তারা শহরে আর্টিলারি ও মেশিনগানের গুলির পাশাপাশি ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। এছাড়া ওয়াদি আল-সালিউকি অঞ্চলেও ইসরায়েলি শেলিং আঘাত হানে।
নাবাতিয়ে জেলায় মাইফাদৌনের উপকণ্ঠে দফায় দফায় আর্টিলারি নিক্ষেপ করা হয়। অন্যদিকে টায়ার জেলার বেইত ইয়াহুনের কাছ থেকে কৌনিনের দিকে একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং বিন্ত জবেইলের আল-তিরি এলাকায় আরও কিছু স্থাপনা ধ্বংস করা হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গত ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৯০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ১২ হাজার ৪২৯ জন।
দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশের দখল বজায় রেখেছে ইসরায়েল। এর মধ্যে কয়েক দশক ধরে ধরে রাখা বিভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের সংঘাতের সময় দখলকৃত এলাকাও রয়েছে। ওই সংঘাতে স্থল সেনারা দেশের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রবেশ করেছিল।
