রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন চুক্তি: পারমাণবিক মজুত ত্যাগের পথে তেহরান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৪, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন চুক্তি: পারমাণবিক মজুত ত্যাগের পথে তেহরান

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটাতে একটি শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে দুই দেশ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সর্পণ করতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।শান্তি প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি।

চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো টোল নেওয়া হবে না। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে বন্দর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। তেহরান তাদের খনিগুলো অপসারণ করতে রাজি হয়েছে। এছাড়া বিলিয়ন ডলারের জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তেহরানের পারমাণবিক চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখায় সই সাপেক্ষে কার্যকর হবে।

তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ গণমাধ্যমগুলোতে চুক্তির বিষয়ে ভিন্ন সুর দেখা গেছে। তাসনিম ও ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির সাথে এই তথ্যের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র পরিষ্কার করেছে, ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগের শর্ত মানা না হলে বোমা হামলার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

চুক্তির ড্রাফটে লেবাননে চলমান ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ সংঘাতের সমাপ্তির কথাও উল্লেখ রয়েছে। এই শর্ত নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি শনিবার ট্রাম্পের সাথে ফোনে কথা বলেছেন এবং চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে তার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই চুক্তিকে বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ তাদের মতে এটি ইরানকে পারমাণবিক শক্তির চেয়েও বড় কোনো কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।

পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন মার্কো রুবিও। শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

banner
Link copied!