সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

তেহরান কূটনীতি

মার্কিন পরমাণু অভিযোগ ভিত্তিহীন ও আলোচনার সৎ উদ্দেশ্য নেই: তেহরান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

মার্কিন পরমাণু অভিযোগ ভিত্তিহীন ও আলোচনার সৎ উদ্দেশ্য নেই: তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনায় আন্তরিকতা দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। গত সোমবার তেহরানে এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী।

ওয়াশিংটন বারবার মিথ্যা দাবি উত্থাপন করছে বলে অভিযোগ করেন বাঘায়ী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন, যা তাদের সদিচ্ছার অভাব প্রমাণ করে।

একটি রাজনৈতিক বিবৃতি ছাড়া ইউরোপের পক্ষ থেকে কোনো নতুন প্রস্তাব তেহরানের কাছে পৌঁছায়নি বলে জানান মুখপাত্র। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অন্ধ অনুসরণ এবং ইরানের ওপর সামরিক হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সমালোচনা করেন।

ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেনি বা অর্জনের চেষ্টা করেনি বলে আবারও স্পষ্ট করেন বাঘায়ী। সামরিক আগ্রাসনের ন্যায্যতা প্রমাণ করতেই ওয়াশিংটন পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভুয়া অভিযোগ তুলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার তিন বছর আগে ইরান সদিচ্ছার সঙ্গেই ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাঘায়ী জানান, উপসাগরীয় দেশটিতে বিমান হামলার শিকার হওয়া তিন ইরানি পাইলটের ভাগ্য সম্পর্কে কাতারকেই স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। তাদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সঠিক দলিল না পাওয়া পর্যন্ত তেহরান এজন্য কাতারকেই দায়ী করবে এবং কারিগরি প্রতিনিধিদল বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতার বিষয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি একটি কাতারি প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে বলে নিশ্চিত করেন বাঘায়ী। আঞ্চলিক সংঘাতের সময়ে এ ধরনের সফরকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ইসরায়েলি নির্বাচন ও সামরিক হুমকি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাঘায়ী অভিযোগ করেন যে, কে বেশি অপরাধ করতে পারে তা নিয়ে ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এমন একটি অবৈধ শাসনব্যবস্থায় কে ক্ষমতায় এল তা নিয়ে ইরানের কিছু আসে যায় না।

মস্কোর সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করতে গ্যাস রপ্তানি দেশগুলোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাশিয়া সফর করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন এই মুখপাত্র।

পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়ে বাঘায়ী বলেন, ইসলামাবাদ প্রযুক্তিগত বিষয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও উত্থাপন করেছে। অন্যদিকে ইরাকের ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, বাগদাদের ওপর মার্কিন চাপ দেশটির সাধারণ জনগণ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে।

বিক্ষোভ দমনে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের আচরণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে তেহরান। ইতালি, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম আন্দোলনকারীদের দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেন বাঘায়ী।

ইয়েমেন ও সৌদি আরব প্রসঙ্গে বাঘায়ী বলেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সৌদি আরব আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং জানান যে সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বজায় রয়েছে। শত্রুতা অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে গত ১৮ জুন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলেও নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ নিয়ে মতপার্থক্য এখনো কূটনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

banner
Link copied!