মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

লোহিত সাগরে তেল সরবরাহের ওপর হুতিদের কঠোর অবরোধ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২১, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

লোহিত সাগরে তেল সরবরাহের ওপর হুতিদের কঠোর অবরোধ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে বলে রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক সামরিক ঘোষণায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা জানানো হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। বিগত কয়েক দিন ধরে সৌদি আরব এবং হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পরই এই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ব্যাঘাতের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় এই অবরোধের ঘোষণা দিয়ে জানান যে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে কার্যকর হবে। ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে হুতি পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতির পর দুই পক্ষের এই নতুন সংঘর্ষ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত বাবল মান্দেব প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে পরিচিত। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইরানি সংঘাতে বিঘ্ন ঘটার পর সৌদি আরব তাদের তেলের বড় অংশ লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে রপ্তানি করে আসছে। হুতিদের এই নতুন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।

সৌদি আরব এই একতরফা অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও জলসীমার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। সৌদির নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে যে তারা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল নিরাপদ রাখতে বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও এই পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হয়ে আসায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের নিরাপত্তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করার জন্য বর্তমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন রণক্ষেত্র পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে। তবে মাঠপর্যায়ে সামরিক উত্তেজনা কম হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। বিশ্ববাসীর নজর এখন লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরের উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।

banner
Link copied!