আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং কৌশলগত সামুদ্রিক পথ বন্ধ থাকার ফলে উদ্ভূত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান। ফিলিপাইনের রাজধানী মানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এই গুরুতর পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলের অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহের তীব্র ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে। আসিয়ান জোটের সম্মিলিত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি তিন দশমিক আট ট্রিলিয়ন ডলার হলেও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় এই অর্থনৈতিক অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়েছে।
ফিলিপাইনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং আকাশছোঁয়া জ্বালানি মূল্য ও সরবরাহ ঘাটতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সংকট মোকাবেলায় এই দেশগুলো রাশিয়া এবং চীনের মতো অপ্রথাগত অংশীদারদের কাছ থেকেও তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। মানিলায় নিযুক্ত আল জাজিরার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন যে ভৌগোলিক দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত হলেও এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ কূটনীতিকরা জানান যে এই ধরনের একতরফা সামুদ্রিক অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলোকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক নৌ অবরোধের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকদের উপস্থিতি এই সম্মেলনের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
আসিয়ান নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় এই দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে নতুন বাণিজ্য পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই অস্থিরতার প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকরা গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
