রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

ট্রাম্পের নির্দেশে জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

ট্রাম্পের নির্দেশে জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু

জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের মধ্যে সাম্প্রতিক তিক্ত বাগযুদ্ধের জেরে এই বড়সড় সামরিক রদবদলের সিদ্ধান্ত এল। পেন্টাগন জানিয়েছে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই সংখ্যা ৫ হাজারে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই প্রত্যাহারের চূড়ান্ত আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে যারা ইউরোপের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অংশ। এই ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করা হলে জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল তা এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এই সংকটের মূলে রয়েছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রিডরিখ মের্জের প্রকাশ্য বিরোধ। সম্প্রতি চ্যান্সেলর মের্জ মন্তব্য করেছিলেন যে ইরান যুদ্ধের আলোচনায় ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে লজ্জিত ও অপদস্থ হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের অভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ট্রাম্প এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মের্জকে কড়া সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন যে মের্জের উচিত নিজের দেশের ভেঙে পড়া অভিবাসন ও জ্বালানি সমস্যা নিয়ে মনোযোগ দেওয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করা। এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের পরই ওয়াশিংটন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট জানিয়েছেন তারা এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে ইউরোপের দেশগুলোকে এখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। গত বছর দ্য হেগ-এ অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জার্মানি বর্তমানে ৩.১ শতাংশ ব্যয় করছে যা আগের তুলনায় বেশি হলেও ট্রাম্পের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।

জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই সিদ্ধান্তকে আগে থেকেই অনুমিত বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ডিডব্লিউ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে ইউরোপ ও জার্মানিতে মার্কিন সেনার উপস্থিতি দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন সময় এসেছে ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেওয়ার। তিনি জানান জার্মানি এখন ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করেছেন যে মিত্রদের মধ্যে এই বিভাজন রাশিয়ার মতো বহিঃশত্রুর চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী সিনেটর রজার উইকার ও প্রতিনিধি মাইক রজার্স এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে এই প্রত্যাহার ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ভুল বার্তা পাঠাবে। তাদের মতে জার্মানি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বদলে তাদের আরও পূর্ব দিকে মোতায়েন করা উচিত ছিল যাতে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকানো যায়। এদিকে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে সহায়তা না করায় ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। সব মিলিয়ে ট্রান্স-আটলান্টিক মৈত্রীতে এখন এক চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

banner
Link copied!