ইয়েমেন উপকূলে এমটি ইউরেকা নামের একটি তেলবাহী জাহাজ ছিনতাই করেছে সোমালি জলদস্যুরা। আডেন উপসাগর বা গালফ অব এডেনে গত কয়েক দিন ধরে বাড়তে থাকা সামুদ্রিক অস্থিরতার মধ্যে এটি সর্বশেষ বড় ধরণের আক্রমণের ঘটনা। বিবিসি এবং সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি বর্তমানে সোমালিয়ার জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ইয়েমেনি কোস্টগার্ড আগেই নিশ্চিত করেছিল যে এমটি ইউরেকা নামের এই জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ দস্যুরা নিয়ে নিয়েছে এবং এটি ইয়েমেনের কানা বন্দরের কাছাকাছি এলাকা থেকে দখল করা হয়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে যে সোমালিয়ার কান্দালা নামক একটি উপকূলীয় এলাকা থেকে জলদস্যুদের একটি দল এই অভিযান শুরু করে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগোর পতাকাবাহী এই জাহাজটি স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে সশস্ত্র দস্যুদের কবলে পড়ে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি চতুর্থ সফল ছিনতাইয়ের ঘটনা যা ওই অঞ্চলে সোমালি জলদস্যুদের পুনরুত্থানের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে গত ২২ এপ্রিল `অনার ২৫` নামের আরেকটি তেলবাহী জাহাজ ছিনতাই করা হয়েছিল যা প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেল নিয়ে মোগাদিশুর দিকে যাচ্ছিল।
আডেন উপসাগরের এই বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সোমালি জলদস্যুরা এখন তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করছে। সোমালিয়ার উপকূলরেখা প্রায় ৩ হাজার ৩৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যা আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের মধ্যে দীর্ঘতম। দস্যুরা এই বিশাল উপকূলীয় এলাকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাহাজে আক্রমণ চালাচ্ছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টেশন অপারেশন বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে যে ইয়েমেনের আল-মুকালা এলাকার কাছেও একটি মালবাহী জাহাজের দিকে সশস্ত্র ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার খবর পাওয়া গেছে। যদিও সেই জাহাজটি শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছে কি না তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য আসেনি।
২০১১ সালের পর থেকে সোমালি জলদস্যুদের উপদ্রব অনেকটাই কমে এসেছিল কিন্তু ২০২৩ সালের শেষের দিকে লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীগুলো যখন হুথিদের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তখন সেই নিরাপত্তার শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে সোমালি জলদস্যুরা পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। হুথিদের মোকাবিলায় মোতায়েন করা জাহাজগুলো এখন মূলত লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদাব প্রণালীর দিকে নজর দিচ্ছে যার ফলে আডেন উপসাগরীয় অঞ্চলটি দস্যুদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেভাল ফোর্স বা ইইউএনএভিএফওআর এখনো এই সর্বশেষ ছিনতাইয়ের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন যে দস্যুরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত এবং তারা বড় জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এমটি ইউরেকা জাহাজটি এখন সোমালিয়ার জলসীমায় নোঙর ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে যাওয়ার পর দস্যুরা হয়তো মুক্তিপণ বা অন্য কোনো শর্ত নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে। এই ধরণের ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
