রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর সিদ্ধান্তে ন্যাটোর উদ্বেগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৩, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

জার্মানিতে মার্কিন সেনা কমানোর সিদ্ধান্তে ন্যাটোর উদ্বেগ

জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পেন্টাগনের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি ‍‍`ভুল বার্তা‍‍` দেবে এবং ইউরোপীয় অঞ্চলে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করে তুলবে। সিনেট এবং হাউসের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান যথাক্রমে রজার উইকার এবং মাইক রজার্স এক যৌথ বিবৃতিতে তাদের এই গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই সেনাদের ফিরিয়ে না এনে বরং আরও পূর্ব দিকে মোতায়েন করা উচিত ছিল যেন রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকানো সম্ভব হয়।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল গত শুক্রবার এই সেনা হ্রাসের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির ব্যাপক পর্যালোচনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের টানাপোড়েন তুঙ্গে। গত সোমবার জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ মন্তব্য করেছিলেন যে ইরান আলোচনা টেবিলে ওয়াশিংটনকে ‍‍`লজ্জিত‍‍` করছে। ট্রাম্প এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং তার পর থেকেই জার্মানিতে মোতায়েন ৩৬ হাজার সেনার মধ্যে থেকে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা এলো।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার এক বক্তব্যে আরও বড় ধরণের সেনা হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে ৫ হাজার সংখ্যাটি কেবল শুরু এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক সেনাকে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। শুধু জার্মানিই নয়, ইতালি এবং স্পেন থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে স্ট্রেট অব হরমুজ বা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সামরিক অভিযানে এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সহায়তা করেনি। তার এই ‍‍`শাস্তিমূলক‍‍` পদক্ষেপ ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস অবশ্য পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তকে ‍‍`পূর্বাভাসযোগ্য‍‍` বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ডিপিএ নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন যে ইউরোপে এবং বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি কেবল জার্মানির নয়, বরং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই প্রয়োজন। তবে জার্মানি এখন নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি জোর দিচ্ছে যেন ভবিষ্যতে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়। অন্যদিকে ন্যাটো এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই পরিস্থিতিকে পুরো জোটের জন্য একটি বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে ন্যাটোর জন্য বাইরের শত্রুর চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে জোটের ভেতরের এই বিভাজন। পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো যারা রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত, তারা এই সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখছে। গত বছর রোমানিয়া থেকে সেনা কমানোর পর এখন জার্মানি থেকে এই প্রত্যাহার ন্যাটোর পূর্ব দিকের প্রতিরক্ষা ব্যুহকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।

রিপাবলিকান চেয়ারম্যানদের মতে, জার্মানি যখন তাদের জিডিপির একটি বড় অংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করতে শুরু করেছে, তখন এই ধরণের ‍‍`অপরিণত‍‍` সিদ্ধান্ত পুতিনকে আক্রমণাত্মক হতে উৎসাহিত করবে। তারা মনে করেন, আমেরিকা যখন ন্যাটোর নেতৃত্ব দিচ্ছে, তখন মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় না করে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত ট্রান্স-আটলান্টিক নিরাপত্তা বলয়কে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই বিতর্কের ফলে মার্কিন কংগ্রেসেও এখন বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যা আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে।

banner
Link copied!