সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

হরমোজ প্রণালীতে আটকা পড়া জাহাজ উদ্ধারে ট্রাম্পের ‍‍`প্রজেক্ট ফ্রিডম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৪, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

হরমোজ প্রণালীতে আটকা পড়া জাহাজ উদ্ধারে ট্রাম্পের ‍‍`প্রজেক্ট ফ্রিডম

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল জলপথ হরমোজ প্রণালীতে কয়েক মাস ধরে আটকা পড়া কয়েক হাজার নাবিক ও শত শত জাহাজকে মুক্ত করতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‍‍`প্রজেক্ট ফ্রিডম‍‍`। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মানবিক কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। কারণ প্রণালীতে আটকা পড়া জাহাজগুলোতে খাবার ও জরুরি রসদ ফুরিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সামরিক সদস্য অংশ নেবেন। তাদের সহায়তায় থাকবে শক্তিশালী গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমোজ প্রণালী কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ইরান এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়, আর এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এই ‍‍`দ্বিমুখী অবরোধের‍‍` কারণে প্রায় ২০ হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়েছেন।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো যখন ইরান তাদের পক্ষ থেকে একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। পাকিস্তান মারফত দেওয়া ওই ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাবে ইরান ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানায়। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই প্রস্তাবটি তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখেছেন কিন্তু এতে তিনি সন্তুষ্ট নন। তার মতে, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান যা করেছে, তার জন্য তারা এখনও বড় কোনো মূল্য চোকায়নি।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানের সাবেক বিপ্লবী গার্ডস কমান্ডার ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই জলপথে মার্কিন হস্তক্ষেপকে তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে। তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বলপ্রয়োগের চেষ্টা করে তবে ইরানও বসে থাকবে না। তবে ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেছেন যে, ইরানের প্রতিনিধিদের সাথেও তাদের ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং এই অভিযান ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্যই ভালো হবে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই হরমোজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বর্তমানে প্রতি ব্যারেলে ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্প তার ঘোষণায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রজেক্ট ফ্রিডমের কাজে যদি কেউ বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

নিবন্ধটি লেখার সময় পর্যন্ত জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাদের শান্তি প্রস্তাবের জবাব পেয়েছে এবং সেটি পর্যালোচনা করছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে হরমোজ প্রণালীর এই উদ্ধার অভিযান একটি মানবিক কাজ হিসেবে ট্রাম্প দাবি করলেও, তা নতুন করে বড় কোনো যুদ্ধের সূচনা করে কি না, সেই আশঙ্কায় রয়েছে বিশ্ববাসী।

banner
Link copied!