সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

ভারতের বিধানসভা নির্বাচন: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূলের লড়াই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৪, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

ভারতের বিধানসভা নির্বাচন: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূলের লড়াই

ভারতের পাঁচটি রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে আজ সোমবার। প্রাথমিক প্রবণতায় পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোতে বড় ধরনের রাজনৈতিক রদবদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির মধ্যে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে, তা সকালেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৩৭টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ১২৫টির মতো আসনে লিড দিচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য যে কোনো দল বা জোটকে অন্তত ১৪৮টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

এই নির্বাচনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি আসনটি। এখানে তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির রত্না দেবনাথ। রত্না দেবনাথ সাধারণ কোনো প্রার্থী নন, তিনি ২০২৪ সালে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজে নৃশংসভাবে খুন ও ধর্ষণের শিকার হওয়া সেই নারী চিকিৎসকের মা। সেই ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল পুরো ভারত, যার ঢেউ লেগেছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। রত্না দেবনাথ তার নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের নিরাপত্তা এবং রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির বিষয়টিকে প্রধান হাতিয়ার করেছেন। ফলে এই আসনের দিকে সারা ভারতের নজর আটকে আছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। তামিলনাড়ুতে সুপারস্টার অভিনেতা বিজয় তার নবগঠিত দল টিভিকের মাধ্যমে প্রথাগত রাজনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছেন। প্রাথমিক ট্রেন্ড বলছে, বিজয়ের দল প্রায় ১০০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিনের শাসক দল ডিএমকে মাত্র ৫০টি আসনে লিড দিচ্ছে। তামিলনাড়ুর রাজনীতি গত কয়েক দশক ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বিজয়ের এই উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বংশীয় রাজনীতি এবং দুর্নীতির বাইরে নতুন কিছু খুঁজছে।

আসামের ফলাফল অবশ্য কিছুটা একপাক্ষিক হওয়ার পথে। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৯০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে বিপুল ব্যবধানে জয়ের সুবাস পাচ্ছে। বিরোধী কংগ্রেস সেখানে মাত্র ৩০টি আসনে লড়াইয়ে টিকে থাকতে পেরেছে। কেরালার চিত্র আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ৯০টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে, আর বর্তমান শাসক বামপন্থী জোট মাত্র ৪৫টি আসনে লিড পাচ্ছে। কেরালার মানুষ যে প্রথা অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকার পরিবর্তন করে, এবারও সেই ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

ভোট গণনার এই প্রাথমিক তথ্যগুলো যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ অনেক আসনেই দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুবই সামান্য। দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল কেবল রাজ্যগুলোর ক্ষমতা নির্ধারণ করবে না, বরং আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে মোদি সরকারের জনপ্রিয়তার এক বড় পরীক্ষা হিসেবেও গণ্য হবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালায় বিজেপি যদি বড় কোনো সাফল্য পায়, তবে তা ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

banner
Link copied!