সোমবার, ০৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

আটক ইরানি জাহাজের ২২ নাবিক পাকিস্তানে, দ্রুত ফিরবেন তেহরানে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৪, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

আটক ইরানি জাহাজের ২২ নাবিক পাকিস্তানে, দ্রুত ফিরবেন তেহরানে

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে আটক ইরানি মালবাহী জাহাজ ‘এমভি তুসকা’-র ২২ জন নাবিককে পাকিস্তানে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এই পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘আস্থা তৈরির পদক্ষেপ’ বা কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, রবিবার রাতে এই নাবিকদের আকাশপথে পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয় এবং আজই তাদের ইরানি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

এমভি তুসকা নামক এই কন্টেইনার জাহাজটি কয়েক সপ্তাহ আগে আরব সাগরে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, জাহাজটি ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করে নিষিদ্ধ বন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। আটকের পর থেকেই নাবিকরা জাহাজে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান—উভয় পক্ষের সাথেই সমন্বয় করে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য পাকিস্তানি জলসীমায় নিয়ে আসা হবে এবং কাজ শেষ হলে এটি তার মূল মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম-এর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন বাহিনী সফলভাবে ২২ জন নাবিককে পাকিস্তানে হস্তান্তর করেছে। তবে গত সপ্তাহে আরও ছয়জন যাত্রীকে অন্য একটি আঞ্চলিক দেশে পাঠানো হয়েছিল তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য। ক্যাপ্টেন হকিন্স জানান যে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র এই হস্তান্তরের বিষয়ে রাজি হয়েছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে যখন যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে, তখন ইসলামাবাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে বলেছে যে, তারা এই ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পাকিস্তান ভবিষ্যতেও তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

বর্তমানে লোহিত সাগর এবং আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর যে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঘটনাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে, তবুও নাবিকদের মুক্তি এবং জাহাজটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ইঙ্গিত দেয় যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলোচনা সচল রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মাধ্যমে যে উদ্ধার অভিযানের কথা বলা হচ্ছে, তার সাথে এই নাবিকদের মুক্তির পরোক্ষ কোনো সংযোগ থাকতে পারে। সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবিক সংকটের কিছুটা উপশম ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

banner
Link copied!