ফ্রান্সকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। ড্যালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল অসাধারণ। আল জাজিরা এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে পুরো ম্যাচে কোনো সুযোগই দেননি স্পেনের খেলোয়াড়রা। ২০১০ সালের পর এই প্রথমবার স্পেন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। ম্যাচটিতে মিকেল ওয়ারজাবাল পেনাল্টি থেকে গোল করেন এবং পরবর্তীতে পেদ্রো পোরো দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে স্বীকার করেছেন যে তাদের দলের কৌশল ঠিকমতো কাজ করেনি। স্পেনের মাঝমাঠের আধিপত্য এবং রক্ষণাত্মক দৃঢ়তার কাছে ফ্রান্সের আক্রমণ মুখ থুবড়ে পড়েছে। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ফ্রান্স ফেভারিট হিসেবে খেললেও সেমিফাইনালে তাদের খেলার মান ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অন্যদিকে স্পেন তাদের টানা ছয় ম্যাচে কোনো গোল না খাওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এখন শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
এখন পুরো বিশ্বের চোখ বুধবারের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের দিকে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনার। দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুই দলের মধ্যে খুব সামান্যই পার্থক্য রয়েছে। অপটা সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস বলছে যে ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৭টি গোল করেছে, যা যেকোনো দলের চেয়ে বেশি।
ইংল্যান্ডের হয়ে হ্যারি কেন এবং জুড বেলিংহাম অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন। এই প্রথম কোনো একটি দলের দুজন খেলোয়াড় একই বিশ্বকাপে ছয়টি করে গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি আটটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার উপরে আছেন। বুধবারের এই মহারণ থেকে বিজয়ী দল রবিবার অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে। যারা পরাজিত হবে, তারা তৃতীয় স্থানের জন্য শনিবার মাঠে নামবে। ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে প্রতিটি মুহূর্ত এখন উত্তেজনার পারদ ছড়াচ্ছে। ফুটবল প্রেমীদের প্রত্যাশা, ফাইনালের আগে এই সেমিফাইনাল ম্যাচটি একটি দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দেবে।
